 |
খাগড়াছড়ি: শনিবার রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া পাহাড়ি-বাঙালি ছাত্রদের সংঘর্ষের জের ধরে পাহাড়ি-বাঙালি লড়াই এখন রাঙামাটি ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ বন্ধ ঘোষণার পর এ লড়াই ফেসবুক, টুইটারে ছড়িয়ে পড়ে। একপক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি করছে।
পাহাড়িরা এ ঘটনাকে পুরোটা “বাঙালিদের সাজানো নাটক” বলে দাবি করলেও বাঙালিরা একে “পাহাড়িদের গভীর ষড়যন্ত্র” হিসেবে দেখছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইনের সংবাদও ছিল আলোচনার বিষয়। যাদের ফেসবুক কিংবা টুইটারে অ্যাকাউন্ট আছে, তারা সর্বশেষ খবর জেনে পক্ষে-বিপক্ষে ফেসবুক প্রোফাইলে ‘শেয়ার’ অথবা টুইটারে ‘টু্ইট’ করে দিচ্ছেন।
এদিকে, ফেসবুকে অ্যাকাউন্টধারী পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা তাদের “প্রোফাইল পিকচার” পাল্টে কালোব্যাজের ছবি আপলোড করেছেন।
সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পরেই রাঙামাটির এক পাহাড়ি তরুণ তার প্রোফাইল স্ট্যাটাসে লেখেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে জুম্ম জনগণের ওপর বাঙালিরা হামলা চালিয়েছে। সময় এসেছে, সবাই এক হয়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মাঠে নামার।”
অন্য এক পাহাড়ি তরুণ তার স্টাটাসে লেখেন, “যুগ যুগ ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রশাসন সবার জন্য সমান থাকার কথা থাকলেও পাহাড়ে তা ভিন্ন। তারা সময়মতো পদক্ষেপ নিলে ঘটনা এতদূর যেতো না।”
অপরদিকে, এক বাঙালি তরুণ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “বাঙালি ছাত্র পেটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।”
আবার পাহাড়ি এক তরুণ “এক পাহাড়ি ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় এ সংঘর্ষের সৃষ্টি” বলে দাবি করেছেন।
আরেকজন লিখেছেন, “সব বাঙালি, পাহাড়ি নয়, গুটিকয়েক লোক রাঙামাটির সংঘর্ষের জন্য দায়ী। গুটিকয়েক লোকের জন্য রাঙামাটির আজ এই অবস্থা! সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত। কিন্তু, মনের পরিস্থিতি উত্তপ্ত।”
অনেকে আবার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত ও অনলাইন সংবাদের সমালোচনা করে বলেন, “সংবাদ বিকৃত করা হচ্ছে। অনেক মিডিয়া সরাসরি পাহাড়িদের পক্ষে কথা বলছে। আবার কোনো কোনো মিডিয়া বাঙালিদের পক্ষ টেনে কথা বলছে।”
বাংলাদেশ সময়: ০৩০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর