রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত আবাসিক কোয়ার্টারে এখন বাস করছেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা।
ভালো পরিবেশ না থাকায় বেশিরভাগ চিকিৎসক তাদের জন্য বরাদ্দ করা ফ্ল্যাট ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করছেন।
আর তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ বাসাগুলোতে বাস করেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডের মধ্যে এ কর্মকাণ্ড চলছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রামেক হাসপাতালের পেছনে চিকিৎসকদের থাকার জন্য বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে আবাসিক কোয়ার্টার । এখানে রয়েছে ৩০টি ফ্ল্যাট । নিয়মানুযায়ী রামেক হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের এসব ফ্ল্যাটে বসবাস করার কথা।
কিন্তু বেশিরভাগ চিকিৎসক ভাড়া বাড়িতে থাকায় অনেক ফ্ল্যাটে পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করতে শুরু করেছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।
আবাসিক কোয়ার্টারের ফ্ল্যাটে বসবাসরত এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, সেখানে বসবাস করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। দিনের বেলা বাসার বাইরে যেনো গরু ছাগলের চারণ ভূমি। আর রাতে পরিণত হয় মাদকের আখড়ায়।
তিনি আরও জানান, বহিরাগত থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ফ্ল্যাটগুলোর আশপাশে প্রায়ই নেশার আসর বসায়। রাতে এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। এসব কারণেই কোয়ার্টার ছেড়ে ভাড়া বাসায় চলে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আবাসিক কোয়ার্টারে বর্তমানে হাতে গোনা যেসব চিকিৎসক বাস করছেন, তারাও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের জন্য নির্মিত বাড়িগুলোর একটি বি-৪ নম্বরের প্রথম তলায় বসবাস করছেন আবদুস সোবহান। রামেকের উচ্চমান সহকারী হয়েও তিনি বসবাস করছেন চিকিৎসকদের কোয়ার্টারে।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, কোয়ার্টার খালি থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে এখানে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। বিনা ভাড়ায় তিনি দিব্যি বাস করছেন সেখানে।
পাশের ভবন বি-৬ নম্বর বাড়ির নিচ তলায় বসবাস করেন বহিরাগত খোকন নামের এক ব্যক্তি। কার অনুমতিতে তিনি ডাক্তারদের ফ্ল্যাটে আছেন তা কেউই জানেন না।
চিকিৎসকদের আবাসিক এলাকার পশ্চিম পাশে রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের থাকার জন্য আবাসিক এলাকা। সেখানে ৪টি বাড়িতে রয়েছে ৫২টি ফ্ল্যাট।
এখানেও একই অবস্থা। বর্তমানে ওই বাড়িগুলোর ৫২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৬ থেকে ২০টি ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে আছে। এ ছাড়া কেয়ারটেকারের নামে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা কয়েকটি ফ্ল্যাট দখল করে নিয়েছেন। বি-১১ নম্বরে রেহেনা পারভিন নামে একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বাস করেন।
ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বাস করেন চতুর্থ শ্রেণীর আরেক কর্মচারী। ওই কর্মচারী তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করলেও রামেক হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টার দখল করে আছেন।
একইভাবে বি-৮ নম্বর বাড়িতে থাকেন ২ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। এখানে বসবাসরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী রাব্বানি বাংলানিউজকে জানান, ভবনের ভেতর অথবা বাইরে কোথাও বসবাসের পরিবেশ নেই। বাড়ি দেখাশোনার নাম করে যে যেমন করে পারছে, তেমন করে ফাঁকা ফ্ল্যাটগুলোতে উঠে পড়ছে।
এদিকে, সন্ধ্যা নামলেই বাইরে বের হওয়ার উপায় থাকে না। হাসপাতাল কম্পাউন্ডের বাড়িগুলোর আশপাশে চলে মাদকের আড্ডাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন- ফ্লাট বাড়িগুলোর মধ্যে কিছু বাড়ি আছে কলেজের অধীনে, কিছু আছে হাসপাতালের অধীনে, আবার কিছু আছে কলেজ ও হাসপাতাল উভয়ের।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের ফ্ল্যাটে তাদের পরিবর্তে কর্মচারীরা বসবাস করে এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই। তবে এমনটি ঘটে থাকলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৬২০ ঘণ্টা, জুন ০৯, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর;নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর