বইমেলা থেকে: অমর একুশের গ্রন্থমেলায় ‘অ্যাডর্ন’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে গাজী তানজিয়ার তৃতীয় উপন্যাস ‘বায়বীয় রঙ’।
এর আগে প্রকাশিত হয়েছে তার উপন্যাস ‘জাতিস্বর’, ‘পৃথিবীলোক’, কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘সবুজ ঘাসে মুক্ত বেশে’ ও রাজনৈতিক নিবন্ধ ‘অরক্ষিত দেশ অবরুদ্ধ সময়’।
মুক্তবাজার আর আকাশ সংস্কৃতির যুগে এসময়ের তরুণীদের হাতছানি দেয় কিছু লোভনীয় পেশা। অর্থের সাথে যা দিতে পারে পরিচিতি এবং খ্যাতিও। মিডিয়ার ঝলমলে সেই জগৎ যেন বা কাচের পৃথিবী। রং তার বায়বীয়।
সন্তর্পণে পা রাখতে না পারলেই স্খলন। উপন্যাসের মূল চরিত্র বহ্নি চায় এমনই এক পৃথিবীতে নিজের প্রতিষ্ঠা।
উপন্যাসে গল্প বয়ানকারী দীপ্তি নিম্ন মধ্যবিত্তের মূল্যবোধ ভেঙে বোনকে সমর্থন দিয়ে যায়। কিন্তু যে সমাজের মূল্যবোধ ক্ষয়িষ্ণু সেখানে কি করে সম্ভব টিকে থাকা? এমনই এক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে উপন্যাসটিতে।
বইমেলার ষষ্ঠদশতম দিন, শনিবার সকালে মেলা প্রাঙ্গণে নতুন উপন্যাস, বইমেলা ও শাহবাগে চলমান গণআন্দোলন বিষয়ে কথা হয় গাজী তানজিয়ার সঙ্গে। নতুন উপন্যাস ‘বায়বীয় রঙ’-এর কাহিনী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “মুক্তবাজার অর্থনীতির সমাজে নারী এক ধরনের পণ্য। বস্তুপণ্যের বাইরে নারীকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তারই এক নির্মোহ বর্ণনা অঙ্কন করেছি উপন্যাসটিতে। মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে বেড়ে ওঠা, মধ্যবিত্ত সমাজের ভেতরকার যাবতীয় মূল্যবোধ ও সংস্কার ধারণ করে বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে হায়ার ক্লাসে ড্রাইভ করার আকাঙ্ক্ষায় একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আর এই আকাঙ্ক্ষাকে ছুঁতে গিয়ে কীভাবে তাকে হারাতে হয় লালিত মূল্যবোধ আর কতভাবে নিজের সাথে আপোষ করতে হয়। আপোষ করা, না-করার দ্বিধা ও দ্বিধামুক্তির ভেতর দিয়ে অনেকগুলো মনস্তাত্ত্বিক পর্যায় ও তার পরিণতির বর্ণনা।”
গ্রন্থাকারে মেলায় আসার আগে উপন্যাসটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘নতুন ধারা’য় প্রকাশিত হয়। নতুন ধারায় উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকর্মী ও এধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা আয়োজনকারীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিলো।
অ্যাডর্ন থেকে প্রকাশিত গাজী তানজিয়ার তৃতীয় উপন্যাস ‘বায়বীয় রঙ’ বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী জাফরিন গুলশান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৩
সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর