 |
ঢাকা: ২৮ নভেম্বরের জনসভা শুধু জনসভাই নয়, এটি হবে ১৮ দলের নির্বাচনী মহড়া। আর জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ শক্তিটিও সেদিনই প্রদর্শন করতে চায়।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে উন্মুখ হয়ে থাকা ১৮ দলের এমন নেতারাই জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার মূল প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
জনসমর্থন আছে প্রমাণ করতেই ওই সব নেতারা তাদের পক্ষে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সভায় উপস্থিত করতে নিরলস কাজ করছেন। প্রত্যেকেই যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, দলীয় সমর্থক ও কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে।
সবার উদ্দেশ্য একটাই, বিএনপির চেয়ারপার্সন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নজরে পড়া। আর লক্ষ্যও তাদের একটাই, শোডাউনে প্রচুর লোক দেখে নেত্রী খুশি হবেন এবং আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের পথ সুগম করে দেবেন।
১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ঢাকা বিভাগের ৯৪টি আসনের প্রায় আড়াইশ’র মতো নেতা মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর ও আশপাশের জেলার থানা-উপজেলাগুলোর একাধিক নেতা জনসভায় তাদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঢাকার ৪৩টি থানা ও ঢাকার আশপাশে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলা ও এসব জেলার বিভিন্ন থানা-উপজেলার অনেক নেতাই তাদের জনসমর্থন ও শক্তি প্রদর্শনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন ২৮ নভেম্বরের জনসভাকে।
এসব এলাকার নেতারা এ সুযোগ হাতছাড়া করতেও নারাজ। এজন্যই আদাজল খেয়ে নেমেছেন তারা। সবাই এলাকা থেকে হাজার হাজার কর্মী ও সাধারণ মানুষকে জড়ো করে সভায় হাজির হবেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা খেটে চলেছেন এবং যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
শুধু এসব থানা-উপজেলা, জেলার নেতারাই নন, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষকদল, ওলামাদল, জাসাসসহ সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও কোমর বেঁধে নেমেছেন। বিএনপি প্রধানকে খুশি করতে দলের নেতাদের নির্বাচনী এই শক্তির মহড়ায় ২৮ নভেম্বরের জনসভা পরিণত হতে পারে মহাসমাবেশে।
এ সুযোগে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, নেতাকর্মীরা যাচ্ছেন শিল্প কারখানার মালিকদের কাছেও। কারখানার শ্রমিকদের বেতনের অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করে হলেও জনসভায় উপস্থিত করার চেষ্টা করছেন তারা।
তবে শক্তি প্রদর্শন বা জনগণের চেয়ে তারা এক্ষেত্রে বেশি নজর দেবেন খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণে। কার দলে লোক বেশি সেটি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা হবে নিজেদের মধ্যে। ঢাকা বিভাগের আসনগুলোতে আসীন হতে কোনোরকম ভুলচুকের সুযোগ নিজেদেরই দিচ্ছেন না এসব নেতা।
ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, “এই জনসভা স্মরণকালের সেরা জনসভা হবে। সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি আমরা। আমাদের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। আশা করি, সরকার আমাদের এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা হবে না, বরং সহযোগিতা করবে।”
এদিকে, ১৮ দলের অন্যতম শরিক দল জামায়াত নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সময় পার করলেও ২৮ নভেম্বরের জনসভায় ঢাকা এবং আশপাশের এলাকা থেকে কমপক্ষে দুই লাখ লোক হাজির করতে চায়। বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা- এমন কথাই বাংলানিউজকে জানিয়েছেন এক দায়িত্বশীল নেতা।
সরকারের গ্রেফতার নির্যাতন ও হামলা মামলার পরেও ঢাকার বাইরে থেকে আরো তিন লাখ লোক সমাগম ঘটাতে চায় তারা। তবে তা নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপরে। জামায়াত সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে হলেও ওই জনসভায় বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন করবে।
জামায়াত সূত্র অবশ্য দাবি করেছে, তাদের এই শক্তির মহড়া খালেদা জিয়াকে খুশি করতে নয়। বরং তারা সরকারকে সতর্ক সংকেত দিতেই জনসভায় বড় ধরনের শো-ডাউন করবে।
জনসভার প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরা সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, এই জনসভাকে সফল করতে তারা সকল ধরনের চেষ্টাই করবেন। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কোনো বাধাই আমাদের জনসভাকে ব্যাহত করতে পারবে না।’’
মাসুদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ২৮ নভেম্বরের জনসভা সফল করতে সহায়তা করবে। কারণ, এ কর্মসূচি কোনো রকম ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নয়, সম্পূর্ণই গণতান্ত্রিক কর্মসূচি।’’
তিনি বলেন, জামায়াত এ জনসভায় বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১২
এমএম/এসকেএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর