ঢাকা: ২ এপ্রিল, ২০১২। যুক্তরাষ্ট্রের ওকল্যান্ড এয়ারপোর্টের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক বন্দুকধারীর আকস্মিক ও বেপরোয়া গুলি। ঝরে গেল সাতটি প্রাণ। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে পুলিশ সার্জেন্ট ক্রিস বোল্টন একগুচ্ছ সতর্ক-বার্তা দ্রুততার সঙ্গে পোস্ট করলেন।
বোল্টনের প্রথম বার্তা ছিল, “ওই এলাকার বাইরে থাকুন,” “বহু লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, পুলিশ পার্শ্ববর্তী বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো ফাঁকা করছে।”
বসন্তের সেই দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা হঠাৎ করেই ভয়াবহ এ দৃশ্যের মুখোমুখি। ক্রিশ্চিয়ান কলেজের এ ঘটনায় সাতজন নিহত ও তিনজন মারাত্মক জখম হয়। ওকল্যান্ডের ইতিহাসে এই প্রথম এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটলো।
পরিস্থিতি সামলে নিয়ে বোল্টন স্যোশাল মিডিয়াতেই আবার তার তথ্য জানিয়ে দিলেন: “সন্দেহভাজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় চলাচলে এখন আর কোনো হুমকি নেই।”
যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন হাতিয়ার হিসেবে তাদের ‘অস্ত্রভাণ্ডারে’ সোশ্যাল মিডিয়াকে যোগ করছে। বোল্টনের এই বার্তাগুলো তারই প্রমাণ।
দেশটির প্রায় ছয় হাজার সংস্থাকে গণবিজ্ঞপ্তি (পাবলিক নোটিফিকেশন) প্রতিষ্ঠান নিক্সলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় অধিবাসীদের সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক ঘটনা বা তৎপরতার তাৎক্ষণিক আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
যানজট, হারানো বিজ্ঞপ্তিসহ নানা বিষয়েও পাবলিক নোটিফিকেশন দেওয়া হচ্ছে এর মাধ্যমে।
এর আগে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আমারিলো এলাকায় পলাতক এক আসামিকে ধরিয়ে দিতে নিক্সলেকে কাজে লাগায় পুলিশ। নর্থ ক্যারোলাইনার ফায়েটেভিলে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় নিক্সলের সহায়তায়। সেবারও ডাকাতির ঘটনার পরপরই স্থানীয় অধিবাসীদের সতর্ক (অ্যালার্ট) করা হয় এবং এর ফলেই সন্দেহভাজনকে ধরা সম্ভব হয়।
স্যানফ্রান্সিসকোভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া নিক্সলের সদস্য প্রায় ১০ লাখ। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহর শিকাগো, লসএঞ্জেলেস, বাল্টিমোর ও ডালাসে পুলিশ বিভাগকে সহায়তা করছে নিক্সলে। বিষয়টিকে ইলেকট্রনিক কমিউনিটি পুলিশের ‘নীল তরঙ্গ’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর সাহায্যে পুলিশ সরাসরি জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে পারে।
আন্তর্জাতিক পুলিশপ্রধানদের সমিতি (আইএসিপি) সম্প্রতি ৮০০ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছে, এতে অংশ নেওয়া ১০ জনের নয়জনই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। আর অর্ধেকেই বেশি জানিয়েছে, অপরাধ দমনে সোশ্যাল মিডিয়া সহায়তা করেছে।
নিক্সলে ছাড়াও টুইটার ও ফেসবুক ব্যবহার করছে অনেক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। জননিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির জন্য কোডরেড রয়েছে। তবে নিক্সলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইন প্রয়োগকারী টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার (এনএলইটিএস) অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জননিরাপত্তা বিষয়ক সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে।
নিক্সলের শুরু ২০০৭ সালে। এখনো মুনাফার মুখ দেখেনি কোম্পানিটি। তবে এর প্রধান নির্বাহী এরিক লিউ জানান, তার দেশের পুলিশ এখন নিখরচায় সেবা পেলেও এক সময় তাদের অর্থ দিতে হবে।
২ এপ্রিল ওকল্যান্ডের ওইকস ইউনিভার্সিটির সাবেক এক ছাত্রের গুলিবর্ষণের সময় বোল্টন নিক্সলেকেই বেছে নিয়েছিলেন স্থানীয়দের সঠিক সময়ে সতর্ক করার জন্য।
বোল্টন বলেন, “অন্যন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের থেকে আলাদা নই, আমিও চাই সংকট মুহূর্তে মানুষকে সহায়তা করতে। তবে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাম্পাসে ঢুকে মাথায় চাপ নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ছাত্রদের জীবন রক্ষা করল তাদের তুলনা নেই। আমি কম্পিউটার টার্মিনালে বসে কাজ করার সঙ্গে তাদের তুলনা করছি না। তবে আমি মনে করি, সোশ্যাল মিডিয়া জননিরাপত্তার জন্য একই সেবা দেয়।”
বাংলাদেশ সময়: ১০০২ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: এমএমকে; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com