 |
ঢাকা: মিসরের ইতিহাসে এই প্রথম স্বাধীন নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে যাচ্ছে জনগণ। শনিবার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে রোববার পর্যন্ত।
নির্বাচিত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোরকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা ভোট গ্রহণে এরা যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় হন।
ক্ষমতাসীন সামরিক সুপ্রিম কাউন্সিল আগামী ১ জুলাই ক্ষমতা হস্তান্তরের অঙ্গীকার করেছে। তবে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট সংসদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণার পর এখন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের অধিকারী মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি আদালতের এ রায় এবং ধারাবাহিক ঘটনাকে ‘পূর্ণ সেনা অভুত্থান’ বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, হোসনি মোবারকের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মিসর আবার সংঘাতের দিকে যাবে।
তবে এর পরও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী মুরসি এবং শফিক গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই ভোটারদের সামনে হাজির হয়ে শেষ নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। প্র্রচারণায় মুরসি স্বভাবতই নিজেকে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। আর শফিক ভোটারদের স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে যাইহোক যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না কেন তাকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ক্ষমতা গ্রহণ করতে হবে। কারণ শুক্রবারই সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য আর্মড ফোর্সেস (এসসিএএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তারা বলেছে, সংসদ ভবনে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে সংসদে প্রভাবশালী ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি খুব শিগগির সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ব্রাদারহুড নেতা এবং সংসদের স্পিকার সাদ আল কাতাতানি আদালতের রায়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী সপ্তাহে সংসদ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের রায়ে আদালত ঘোষণা দেয়, নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রার্থীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার বৈধতা দানকারী নির্বাচনী আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এ যুক্তির ভিত্তিতে ৫০৮ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচিত সংসদকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে গত মঙ্গলবার নিয়োগপ্রাপ্ত সংবিধান প্রণয়ন কমিটিকেও অযোগ্য ঘোষণা করে আদালত।
এ অবস্থায় মিলিটারি সুপ্রিম কাউন্সিল আগামী সপ্তাহে তাদের নিজস্ব সংসদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
এক কথায়, সুপ্রিমকোর্ট সাধারণ জনগণ এবং সামরিক বাহিনীকে আবার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে মিসরের গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের আশা আবারো হুমকির মুখে ঢেলে দেওয়া হল।
বাংলাদেশ সময়: ১২৩৪ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর