রিহ্যাব মেলা থেকে: রিহ্যাব সামার ফেয়ারের তৃতীয় দিনে আবারও উধাও হয়ে গেলেন হীরাঝিল প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কর্মকর্তারা। এর আগে মেলার উদ্বোধনী দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়ে পালিয়ে যান তারা।
মেলার তৃতীয় দিন শনিবার সকাল থেকেই হীরাঝিলের ১৩০ নং স্টলে গিয়ে দেখা গেছে স্টলটি খালি। পাশের কয়েকটি স্টলের কর্মকর্তা ও মেলায় আসা দর্শনার্থীদের হীরাঝিলের স্টলে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।
মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবারে স্টলে এসেছিলেন হীরাঝিলের কর্মকর্তারা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর আবার গা ঢাকা দেন।
শনিবার পুরো দিনই হীরাঝিলের স্টল ছিল ফাঁকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের স্টলের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে পর স্টল ছেড়ে পালিয়ে যান। শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা অবশ্য কর্মকর্তাদের দেখা গেছে। কিন্তু শনিবার হীরাঝিলের কোনো কর্মকর্তা একবারের জন্যও স্টলে আসেননি।
মেলা উপলক্ষে রিহ্যাব থেকে প্রকাশিত স্যুভেনিরে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হীরাঝিল প্রোপার্টি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (www.bashumatibd.com/) গিয়ে দেখা যায় তাতে ২০১১ সালের তথ্য দেয়া আছে। দীর্ঘ একবছর আপডেট করা হচ্ছেনা ওয়েবসাইটটি।
ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত টিএন্ডটি ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে হীরাঝিলের কর্মকর্তাদের চাইলে ওপাশ থেকে বলা হয়, ‘আমি নতুন। কাউরে চিনিনা। সব স্যাররা চইলা গেছে?’ ফোন রিসিভ যিনি করেছেন তার নাম জানতে চাইলেও নাম না জানিয়ে ফোন লাইন কেটে দেন।
ওয়েবসাইটে পাওয়া মোবাইলে কল দিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে হীরাঝিলের রেসপনসিবল পারসন হিসেবে দাবি করেন। নাম জানতে চাইলে পুরোপুরি এড়িয়ে যান। মার্কেটিং অফিসারের নাম ও নম্বর চাওয়া হলে অফিসে এসে কথা বলতে বলেন।
অপর একটি নম্বরে গ্রাহক পরিচয় দিয়ে কথা বলে মার্কেটিং অফিসারের নম্বর চাইলে পূর্বের নম্বরটিই মার্কেটিং অফিসারের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়। এবার আবার পূর্বের নম্বরে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে মার্কেটিং ম্যানেজারকে চাওয়া হলে ১০ মিনিট পরে ফোন করার কথা বলা হয়।
নির্ধারিত সময়ে ফোন দেওয়ার পর হীরাঝিলের মার্কেটিং ম্যানেজার সৈয়দ রিফাত আলী রিয়াদ ফোন রিসিভ করেন। মেলা ছেড়ে হীরাঝিলের কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমাদের প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে আমরা যে কাগজপত্র দেখিয়েছি তাতে তারা সন্তষ্ট হতে পারেননি। সে অনুযায়ী ভ্রাম্যমান আদালত আমাদের মেলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। আমরা তাই মেলা থেকে বিরত রয়েছি।
অনুমোদনহীন প্রকল্প বিক্রি করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবাইতো এমনটি করছে। রাজউকও তো সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে এমন অনুমোদনহীন প্রকল্প রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরও মেলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, কিন্তু তারা তা মানছেন না। আমরা মানছি বলেই আমাদের নিয়ে এতো কথা।”
ফোন রিসিভ করে নিজের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি জানতে চাইলে সৈয়দ রিফাত আত্মপক্ষ সমর্থন করে ক্ষমা চান।
এদিকে হীরাঝিলের পাশের স্টল থেকে এক কর্মকর্তা জানান, হীরাঝিলের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদেরও দুঃখ দিয়েছে। তাদের এমন আচরণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিও মানুষের খারাপ ধারণা জন্ম নিতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ২০০৬ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০১২
এমআইআর/এমএ/এটি/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর