 |
ঢাকা: উপমহাদেশের গজলসম্রাট মেহেদি হাসান আর নেই ইন্না ... রাজিউন । করাচির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরের দিকে এই মহান গজলগুরুর জীবনাবসান হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
গজল সম্রাটের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায় ফুসফুস ও মূত্রনালীর সমস্যায় দিনকয় দিন আগে করাচির আগা খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রেখে তার চিকিৎসা চলছিলো।
মেহেদি হাসানের ছেলে আরিফকে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানায় ১২ বছর ধরে এই গজলসম্রাটের শরীর ভালো যাচ্ছিল না।
গজলসঙ্গীতের এ মহান শিল্পীর জন্ম ১৯২৭ সালে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ঝুনঝুন জেলার লুনা গ্রামে এক সঙ্গীতঅন্তঃপ্রাণ পরিবারে। ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের পর পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তান পাড়ি জমান মেহেদি হাসান।
প্রথিতযশা এ সঙ্গীতজ্ঞ ধ্রুপদী সঙ্গীতে প্রথম তালিম নেন বাবা ওস্তাদ আজিম খান এবং চাচা ওস্তাদ ইসমাইল খানের কাছে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সফলতম এই গজল সঙ্গীতসাধক পাকিস্তানে `শাহেনশাহ-ই-গজল` খেতাবে ভূষিত হন।
মেহেদি হাসানকে ‘সঙ্গীতপ্রেমীদের সম্মোহনকারী’ বলে আখ্যা দিয়ে তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি।
কয়েক দশক ধরে বিরামহীনভাবে গেয়ে গজলপ্রেমীদের মনে স্থান করে নেওয়া শিল্পী মেহেদি হাসানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের সঙ্গীতের কিংবদন্তি লতা মুঙ্গেশকর।
পারিবারিক সূত্রে শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠলেও মেহেদি হাসান সঙ্গীতকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেন মূলত ১৯৫২ সালে পাকিস্তান রেডিওতে যোগ দেওয়ার পর। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে ২৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। এসব গানের মধ্যে গজলের প্রাধান্য বেশি থাকলেও বলিউডে প্লেব্যাকও করেছেন তিনি।
বর্ণময় সঙ্গীতজীবনে পাকিস্তানসহ ভারত ও নেপালে সম্মানিত হয়েছেন মেহেদি হাসান। তিনি সর্বশেষ ভারতে সঙ্গীতসন্ধ্যা করে গেছেন ২০০০ সালে। বাংলাদেশেও একবার অসংখ্য ভক্ত-শ্রোতাকে মাতিয়ে গেছেন তিনি।
এ গজল-কিংবদন্তি সঙ্গীত সাধনার পাশাপাশি সংস্কৃতি বিনিময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে কাজ করেছেন। এ দায়িত্ব পালনে একাধিকবার ভারত সফর করেছেন।
মেহেদি হাসান সঙ্গীত ক্যারিয়ারের প্রথমে মূলতঃ ছিলেন ঠুমরি গায়ক। তৎকালীন পাকিস্তানের গজল সঙ্গীতে তুমুল জনপ্রিয় ওস্তাদ বরকত আলী খান বেগম আখতার এবং মুখতার বেগমের মতো শিল্পীদের মাঝে নিজের আলাদা স্থান করে নিয়েছিলেন অসাধারণ কণ্ঠ মাধুর্যের অধিকারী এ শিল্পী।
এমন একটা সময় ছিল যখন পাকিস্তানের সিনেমা জগৎ তাকে ছাড়া কল্পনাই করা যেতো না। সিনেমার বহু জনপ্রিয় গানে প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
তার জীবনের শেষ অ্যালবাম সারহাদিন প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এ অ্যালবামেই তার শেষ দ্বৈত গান ‘তেরা মিলনা’ গেয়েছেন লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে।
মূল গানটি মেহেদি হাসান রেকর্ড করেন পাকিস্তানে ২০০৯ সালে। আর লতার অংশটুকু রেকর্ড করা হয় ২০১০ সালে ভারতে। পরে দুই কণ্ঠের ট্র্যাক মিশ্রণ করে দ্বৈত করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা -জুন ১৩ - ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর , আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার , কনসালট্যান্ট এডিটর
Jewel_mazhar@yahoo.com