ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৬ নেতার বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার এজলাসে ওঠেন নি ঢাকার দ্রুতবিচার আদালতের বিচারক।
মঙ্গলবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল।
মির্জা ফখরুলসহ জামিনে থাকা সকল আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।
গত ৩১ জুলাই মামলার তুমুল হৈ চৈ ও বাক বিতণ্ডার মধ্যে ৪৬ আসামির সবার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে ফখরুলদের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
কিন্তু মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ মামলাটির কার্যক্রম ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন।
আসামিদের অন্যতম আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ জানান, ‘‘হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বিষয়ে আইনজীবী সনদের মাধ্যমে আমরা আদালতকে অবহিত করে মামলা স্থগিত করার জন্য আবেদন করেছিলাম।``
এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতবিচার আদালত-৫ এর বিচারক হারুন-অর রশিদ পেশকারের মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে, বিচারক আজ বসবেন না। আসামিরা চলে যাবেন। মামলাটি বিষয়ে সিএমএম পরে আদেশ দেবেন।’’
আসামিপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, সানাউল্লাহ মিয়া, বোরহান উদ্দিন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, মোহসীন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ওমর ফারুক ফারুকীসহ বিএনপিপন্থি শতাধিক আইনজীবী।
এ মামলার ৪৬ আসামির মধ্যে মির্জা ফখরুলসহ ৩৯ জন আসামিই জামিনে আছেন। চারজন পলাতক ও তিনজন কারাগারে আটক আছেন।
মির্জা ফখরুল ছাড়া এ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হচ্ছেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ, সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, , বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্বনির্ভর সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংসদ সদস্য ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম,ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সেক্রেটারী রফিকুল ইসলাম মজনু, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আঃ মতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাসার, বিএনপি নেতা ও ৪০ নং ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান ওরফে এল রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক কমিশনার ইউনুস মৃধা, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল খান শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল মোহাম্মাদপুর থানা শাখার সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার যুগ্ম-সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল হোসেন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার ওরফে জসিম মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
গত ১০ মে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এরপর ২৭ মে ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বারকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১২২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১২
এমআই/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com