 |
ঢাকা: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে এনেছি। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জনগণকে প্রজাতন্ত্রের মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। জনগণের ভাগ্য নিয়ে আর যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল, তা ’৭১কে স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ আর এই অত্যাচার নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি চায় না।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না কেন? এই দল তো কোনো সামরিক শাসনের পকেট থেকে বেড়ে ওঠা দল না। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা দল এটি। বর্তমান সরকারের অধীনে ৫ হাজারেরও বেশি নির্বাচন হয়েছে। কোনো একটি নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি।”
আলোচনা সভায় আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, “একদিনে মা-বাবাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবো। স্বয়ং বাবার কাছ থেকে একটি জিনিস শিখেছি, তা হলো মানুষের ক্ষুধা দূর করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না, এটি ঠিক নয়। সরকার পরিবর্তন হবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়। যারা সংসদে আছেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তাদেরকেও সহযোগিতা করতে হবে।
আর কেউ যাতে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।
যারা অবৈধ অগণতান্ত্রিক সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলতে চায়। আর নিজেদের ভাগ্য গড়ে তুলতে চায় তাদের ব্যাপারেও সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
বর্তমান সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোই সুষ্ঠু হয়েছে। তাহলে রাজনৈতিক দলের অধীনে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না কেন? বলেও প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, যাদের জনগণের ভোট পাওয়ার ক্ষমতা নেই, রাজনৈতিক দল গড়েও যারা ব্যর্থ হন কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ আছে অথচ জনগণের কাছে যেতে পারেন না। তারাই সব সময় অলিগলি খোঁজেন, কিভাবে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘‘অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে এনেছি। মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে আমরা ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকে যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে- তা ’৭১কে স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা চাই না, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে আর সে ধরনের দুর্দশা আর অমানিষার অন্ধকার নেমে আসুক।’’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। সে সময় গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। আমি জাতির জনকের কন্যা। আমার বাবা এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষের এতোটুকু ক্ষতিও হোক, সেটি আমি চাই না। মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন দিতেও পরোয়া করি না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, এটা আমাদের অঙ্গীকার।’’
সভায় আরও বক্তব্য দেন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য দুর্গাদাশ ভট্টাচার্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মো. নাসিম, জাতীয় সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপ ড. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩২ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১২
এমকে/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com