 |
ঢাকা: অনেক সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় দলে ঢুকেছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ধীমান ঘোষ। কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত লন্ডভন্ড করে দিয়েছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ভারতের নিষিদ্ধ প্রিমিয়ার লিগ আইসিএল থেকে ফেরার পর এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি। যদিও তিনি বিশ্বাস করেন জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। ধীমান ঘোষের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য।
বাংলানিউজ: আইসিএল খেলার সিদ্ধান্ত কী ভুল ছিলো?
ধীমান ঘোষ: অনেক আফসোস হয়। কেন যে আইসিএলে খেলতে গিয়েছিলাম। আসলে তখন বয়স কম ছিলো বুঝতে পারিনি। লোভনীয় টাকার প্রস্তাব ফেলতে পারিনি। একয় বছর জাতীয় দলে খেললে অনেক কিছু পাওয়া হয়ে যেতো। ভুল তো ভুলই।
বাংলানিউজ: অলক কাপালী, শাহরিয়ার নাফীস, আফতাব আহমেদ, ফরহাদ রেজা জাতীয় দলে ফিরেছেন আপনি পারছেন না কেন?
ধীমান ঘোষ: আইসিএল থেকে ফেরার পর প্র্যাকটিস করতে পারিনি। ম্যাচ খেলার কোনো সুযোগ ছিলো না। বলতে গেলে ক্রিকেটের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর প্রথম বছর জাতীয় লিগে ভালো খেলিনি। পরের বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আমার। কিপিংও ভালো হয়েছে। গত বছর খুব ভালো খেলতে না পারলেও ওপরের দিকে ছিলাম। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এখন আমার গড় আগের চেয়ে ভালো। আগে ৩০-৩৫ ছিলো এখন ৫০ এর ওপরে গড়। যে কোনো কারণেই হোক জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ হয়নি। নির্বাচকদের দৃষ্টিতে আসলে হয়ে যাবে।
বাংলানিউজ: বলতে চাচ্ছেন আপনাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?
ধীমান ঘোষ: না, না তা বলবো কেন? আমাকে জাতীয় দলের প্রথমিক ক্যাম্পেও রেখেছিলেন নির্বাচকরা। কিন্তু অল্প দিনের ক্যাম্পে আমি তৈরি হতে পারিনি। এবার ‘এ’ দলের ক্যাম্পেও নেওয়া হয়েছে। কত দিনের ক্যাম্প জানি না। এক সপ্তাহের হলে বেশি কিছু করতে পারবো না। তবে ১৫ থেকে ২০ দিন ক্যাম্প হলে চেষ্টা করবো মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়ার জন্য। যোগ্যতা প্রমাণের জন্য এটা ভালো সুযোগ।
বাংলানিউজ: মুশফিকুর রহিম এখন খুব ফর্মে আছেন। তাকে টপকে জাতীয় দলে ঢোকা সম্ভব?
ধীমান ঘোষ: আমি চেষ্টা করছি। প্র্যাকটিসের মধ্যে আছি। ঢাকা লিগের পর চিটাগং লিগে খেলেছি। দিনাজপুর লিগের খেলা শেষ করলাম। সুযোগ পেলে পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেবো। আমার পারফরমেন্স আগের চেয়ে ভালো। এখন নির্বাচনকদের দৃষ্টিতে আসতে পালে হয়।
বাংলানিউজ: দিনাজপুরে প্র্যাকটিসের সুযোগ সুবিধা আছে?
ধীমান ঘোষ: এখানে প্র্যাকটিসের সুবিধা মন্দ না। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে দিনাজপুর বিকেএসপিতে চলে যাই। বিকেএসপির কোচের সাহায্য নেই।
বাংলানিউজ: বলেছিলেন পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে আইসিএলে যাচ্ছেন, এখন কী অর্থনৈতিক সংকট কেটেছে?
ধীমান ঘোষ: কিছুটা তো গেছে। কিন্তু বেশি উপার্জন করতে পারলে বেশি ভালো হতো। জাতীয় দলে ফিরলে আয় বাড়বে।
বাংলানিউজ: কে আপনাকে আইসিএলে নিয়ে গিয়েছিলো?
ধীমান ঘোষ: এখন তা বলে দিলে একজনকে দোষ দেওয়া হবে। কারো নাম বলতে চাচ্ছি না। বলা ঠিকও হবে না।
বাংলানিউজ: যাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন তাদেরকে কি এখন পাশে পান?
ধীমান ঘোষ: তেমন পাই না। যে যার কাজে ব্যস্ত। আমার খোঁজ খবর নিবে কি করে।
বাংলানিউজ: তখন বলেছিলেন দেশকে অনেক দিয়েছেন, এখন কী মনে হয় দেশকে অনেক দেওয়ার আছে?
ধীমান ঘোষ: ছোট ছিলাম, যে ভাবে প্রশ্ন করেছে না বুঝে উত্তর দিয়েছি। দেশকে দেওয়ার শেষ নেই। আজ আমি ক্রিকেটার দেশের জন্য। দেশকে কিছু দেবো বলেই তো লেগে আছি।
বাংলানিউজ: বিয়ে করেছেন?
ধীমান ঘোষ: বিয়ে করিনি। আপাতত কোনো পরিকল্পনাও নেই। যতদিন পারি ক্রিকেট খেলবো। জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা করবো। ওসব নিয়ে পরে চিন্তা করা যাবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০১১ ঘণ্টা, জুন ২৩, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর