 |
| ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
বইমেলা থেকে: বৈরি বাতাস! অস্থির সময়! সন্ধ্যায় অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ঝিরঝিরে হাওয়া যেনো কাঁপন তুলছে মেলায় আগত অনেকের। বুকে কালো ব্যাজ। কপালে বাধা কাপড়ে লেখা ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই’। সন্ধ্যায় এক মিনিটের মৌনতা। এ মৌনতা গণজাগরণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নিহত ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের প্রতি।
শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় বইমেলায় লেখক-পাঠক-প্রকাশক এবং বাংলা একাডেমীর কর্মকর্তারা দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া নিহত এ ব্লগারের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক মঞ্চে বাশির সুরেও যেনো করুণ ভাসে করুণ সুর। সব মিলিয়ে শনিবারের বইমেলা ছিল শোকাবহ।
যতই দিন যাচ্ছে ততই যেনো বইমেলা হয়ে উঠছে দ্রোহের। শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের মৃত্যু ও যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শাহবাগ। সেই উত্তালতার ঢেউ প্রবাহিত হয়েছে অমর একুশের বইমেলাতেও।
শনিবার ১৫০ বই
বাংলা একাডেমীর তথ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত তথ্য কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বাংলানিউজকে জানান, শনিবার মোট বই এসেছে ১৫০টি। বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে গল্প ২৮টি, উপন্যাস ২০টি, প্রবন্ধ ১০টি, কবিতা ৪৫টি, গবেষণা ৩টি, ছড়া ৩টি, শিশুতোষ ৬টি, জীবনী ৩টি, মুক্তিযুদ্ধ ৪, বিজ্ঞান ১টি, ভ্রমণ ২টি, ইতিহাস ১টি, স্বাস্থ্য-৩টি, রম্য/ধাঁধা ৪টি, ধর্মীয় ১টি, অন্যান্য ১৬টি। মোড়ক উন্মোচন হয়েছে ১২টি নতুন বইয়ের।
এদিন আসা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে অনন্যা থেকে ইমদাদুল হক মিলনের ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’, জাগৃতি থেকে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘রাজার চিঠির প্রতীক্ষায়’, শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে নাসির আলী মামুনের ‘আহমেদ ছফার সময়’, বিদ্যাপ্রকাশ থেকে আহসান হাবীবের ‘DIGITAL দেশে ANALOGUE’, অন্বেষা থেকে মোস্তফা মামুনের ‘ফার্স্ট পিরিয়ড’, সন্দেশ থেকে আহমাদ মোস্তফা কামালের ‘অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে’, শুভ্র প্রকাশ থেকে হাসান মোস্তাফিজুর রহমানের ‘ভূতের খোঁজে মামা’ প্রভৃতি।
আলোচনায় শহীদুল জহির
বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদুল জহির : কোথায় পাবো তারে’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাশিল্পী প্রশান্ত মৃধা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাশিল্পী আনিসুল হক, সাদ কামালী এবং শাহনাজ মুন্নী। সভাপতিত্ব করেন কবি ও গবেষক মনজুরে মওলা।
আলোচেনায় প্রাবন্ধিক বলেন, “শহীদুল জহির ছিলেন বাংলাদেশের ভিন্নধারার কথাশিল্পী। সেই বাস্তবকে তিনি কথাসাহিত্যের আকার দান করেন, যে বাস্তব একই সঙ্গে করুণ এবং স্বপ্নময়।”
আলোচকরা বলেন, “শহীদুল জহির কথাসাহিত্যিক ঋদ্ধির জন্য জাদুবাস্তব ভাষা ও কাহিনীরীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন বটে, কিন্ত তাঁর এই জাদু বাস্তবতা বিদেশি শিল্পতত্ত্বের অনুকরণ নয় বরং নিজস্ব মৃত্তিকা থেকে তিনি আহরণ করেছেন জাদুবাস্তব উপাদান। বাংলাদেশের বিস্তৃত ভূগোল ও জনমানুষ তাঁর কথাসাহিত্যে নতুন করে ভাষা পেয়েছে।”
তারা বলেন, “ব্যক্তির কাঠামোয় তিনি সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে ধারণ করেছেন অনায়াস-স্বাচ্ছন্দ্যে। আমাদের কথাসাহিত্যের চেনা সড়ক ভীষণভাবে পাল্টে দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নতুন অভিমুখ।”
সভাপতির বক্তব্যে মনজুরে মওলা বলেন, “শহীদুল জহির ব্যক্তি ও শিল্পী হিসেবে ছিলেন অনন্য। জীবনের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার একাত্ম হয়েছে শিল্পের জমিনে। কাহিনীর অভিনবতা, উপভাষার প্রয়োগ এবং শিল্পশৈলীর স্বাতন্ত্র্য শহীদুল জহিরকে একজন অবশ্যপাঠ্য লেখকে পরিণত করেছে।”
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আহকামউল্লাহ, বেলায়েত হোসেন এবং নিমাই মণ্ডল। আতিকুর রহমান উজ্জ্বলের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র’, মো. আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরশিনগর বাউল সংঘ’ এবং লিয়াকত আলীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পথিকৃৎ ফাউন্ডেশন’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০১১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৩
এডিএ/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর