 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে নাসিমন ভবনের সামনে গত ১৩ মে গাড়ি পোড়ানোর জন্য পুলিশ এবং ‘কিছু দুর্বৃত্ত’কে দায়ী করেছেন নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এজন্য জামায়াত ইসলামীকে দায়ী করা সঠিক বলে মনে করেন না তিনি।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমির খসরু এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে একটি ব্যাখাও দিয়েছেন।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, পুলিশের মারমুখি আচরণের কারণে ১৩ মে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু দুর্বৃত্ত এ অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে।
‘মূলত এজন্য পুলিশ প্রশাসনই সবচেয়ে বেশি দায়ী। কারণ তারা অস্থিরতা সৃষ্টি না করলে দুর্বৃত্তরা মাঠে নামার সুযোগ পেতনা’, বলেন আমির খসরু।
জামায়াত পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ট্র্যাডিশন হয়ে হয়ে গেছে। কিছু হলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের কথা বলা আর জামায়াতকে দায়ী করা হয়। জামায়াত তো নিষিদ্ধ কোনো দল না, তাহলে তারা মিছিল, মিটিং করতে পারবে না কেন?’
প্রসঙ্গক্রমে আমির খসরু আরও বলেন, ‘সারাদেশেই এখন অস্থিরতা চলছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অস্থিরতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ সুযোগেই লুটেরারা, দুর্বৃত্তরা মাঠে নেমে গেছে। গুম, খুন, অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে। সুযোগ পেয়ে দুর্বৃত্তরা ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে।’
গত ১৩ মে চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশের দায়ের করা মামলা, অভিযোগপত্র দাখিলসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুলিশ মামলায় বাকলিয়ার যুবদলের নেতা মোহাম্মদ ইসমাইলকে আসামি করেছে। অথচ বিগত দেড় বছর ধরে প্যারালাইজড হওয়ায় সে ঘর থেকে বের হতে পারে না। দেখা যায়, ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে বিকাল সাড়ে চারটায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করে পরবর্তীতে একই আসামিদের এক ঘণ্টা পর অন্য ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পতেঙ্গা থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ জাকিরকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তিনি ওইদিন কারাগারে ছিলেন। একইভাবে কারাগারে থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের নেতা লিটন মহাজন, রবিউলকে আসামি করা হয়েছে। বিদেশে থাকার পরও কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হিলালীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
আমির খসরু বলেন, ‘সরকার সারা দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। গণতন্ত্রের লেবাসে এক-এগারোর চেয়েও সরকার আরও ভয়াবহ কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। একের পর এক গুম, হত্যা, অপহরণের ঘটনায় দেশের মানুষ চরম আতঙ্গে দিন কাটাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মিছিল-মিটিং করার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মর্জির ওপর নির্ভর করছে। তাদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
আমির খসরু জানান, রোববার চট্টগ্রামে তাদের পূর্বনিধারিত সমাবেশ কর্মসূচি আছে। এজন্য তারা লালদিঘী মাঠ বরাদ্দের জন্য সরকারি মুসলিম হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও পুলিশের বাধায় তারা বরাদ্দ পাচ্ছেন না।
এ অবস্থায় নগরীর যে কোনো স্থানে রোববার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানান আমির খসরু।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওযাহিদুল আলম, সাবেক সাংসদ রোজি কবির, বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম, এ এম নাজিমউদ্দিন আলম, আইনজীবী নেতা অ্যাড. মফিজুল হক ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট এস ইউ নূলুল ইসলাম, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি এবং জেসমিনা খানম।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর