 |
| ফাইল ছবি |
ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস মেরামত কেলেঙ্কারির ঘটনায় নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপিয়ে রক্ষা পেতে চাইছেন পদস্থরা। এজন্য পদস্থ কর্তাব্যক্তিরা এরই মধ্যে নিজেদের রক্ষার সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছেন। বিমান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সংস্থার প্রকৌশল শাখার এক ভুলে বিমানকে গচ্চা দিতে হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে পাঠানোকে কেন্দ্র করেই এই কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
বিমানের নিজস্ব বহরের এয়ারবাসটি রেজি. এস-২ এডিকে সি-চেকের (বড় ধরনের মেরামত) জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় গত ৯ ডিসেম্বর। এরপর ৬ মাস অতিক্রান্ত হলেও উড়োজাহাজটি এখনো ফেরত আসেনি। আর এজন্য বিমানকে এই বিপুল অংকের অর্থ গচ্চা দিতে হচ্ছে।
উড়োজাহাজটি মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। এরই একপর্যায়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি বিমানের প্রকৌশল শাখাকে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠায়। তারা বিমানকে জানায়, তোমরা যদি সম্মত থাকো তাহলে উড়োজাহাজটি পাঠিয়ে দাও। এই ই-মেইল বার্তাটি না দেখেই বিমানের প্রকৌশল শাখার প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিক উদ্দিন উড়োজাহাজটি সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে দেন।
শুধু তাই নয়, সিঙ্গাপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানায়, সি-চেকের বাইরে অনেক কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে তারা বিমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু ঢাকা থেকে সময়মতো উত্তর না পাওয়ায় তারা ধরে নেন বিমান এতে সম্মত রয়েছে। এরপর সিঙ্গাপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কাজ শুরু করে। মাঝপথে এসে বিমান জানায়, বাড়তি কাজের অর্থ তারা দিতে পারবে না। এ অবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটি হ্যাঙ্গারের বাইরে ফেলে রাখে। এভাবে বিমানের গচ্চার পরিমাণ বাড়তে থাকে। অন্যদিকে বিমান বাড়তি অর্থ দেবে না বলে চাপ দিতে থাকে। এভাবে ৬ মাস কেটে গেছে। আর এতে বিমানের ক্ষতি হয়েছে ৯০ কোটি টাকা।
বিমানের প্রকৌশল শাখার একাধিক প্রকৌশলী বাংলানিউজকে বলেন, উইং কমান্ডার আসাদুজ্জামান প্রকৌশল শাখার পরিচালক হিসেবে এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। এই শাখার প্রধান হিসেবে এর দায় তার ওপরও বর্তায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় আসাদুজ্জামান নিজেকে রক্ষার সব আয়োজন করে ফেলেছেন। অথচ একটি ই-মেইল বার্তার উত্তর না দিয়ে বিমানের যে ক্ষতি তারা করছেন তার জন্য কারোই শাস্তি হচ্ছে না। এ ঘটনায় দায়ী হিসেবে প্রকৌশল পরিচালক আসাদুজ্জামান ও একই শাখার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-প্রধান প্রকৌশলী ওয়াসিক উদ্দিনের নাম শোনা গেছে।
তবে আসাদুজ্জামানের দাবি, এ ঘটনাটি যখন ঘটে তখন তিনি ছুটিতে ছিলেন। এরপরও তিনি ই-মেইলের উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এদিকে পরিকল্পনা শাখার প্রকৌশলী ওয়াসিক উদ্দিন বিষয়টি বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ ও তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকীউল ইসলামকে জানিয়েছিলেন। এজন্য তিনি তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। উড়োজাহাজটি ৩৮দিন পর ঢাকা ফেরত আসার কথা থাকলেও ৬ মাসেও তা আসেনি। এতে বিমানের ৯০ কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
তবে বিমানের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ওয়াসিক উদ্দিনের ওপর দায় চাপিয়ে পদস্থ কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। সে অনুযায়ী তারা সবকিছু পরিকল্পনা করেছেন।
এ বিষয়ে বিমানের প্রকৌশল পরিচালক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “আমার সঙ্গে কথা বলতে হলে বিমানের জনসংযোগ শাখার মাধ্যমে কথা বলতে হবে। আর আমার অনুরোধ আমার সঙ্গে কথা না বলে দয়া করে আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন লিখবেন না।”
বাংলাদেশ সময় : ২০৫৩ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০১২
আইএইচ/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর; আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
Jewel_mazhar@yahoo.com