 |
ঢাকা: বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের পারিশ্রমিক না বাড়লেও বেড়েছে এ শিল্পে আমাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের শ্রমিকদের পারিশ্রমিক। আর চীনে শ্রমমূল্য বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশের ক্রেতা।
জানা যায়, চীনে পোশাকখাতে শ্রমমূল্য বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে সেদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও খুচরা পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভ্যাঙ্কলের পক্ষে এখন কম দামে পোশাক সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই পোশাক কেনার জন্য তারা অপেক্ষাকৃত সস্তার বাজার বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে।
ভ্যাঙ্কলের প্রডাকশন ম্যানেজার লিও হাওয়ের জানিয়েছেন, গত বছর তারা বাংলাদেশের বাজার থেকে শার্ট সংগ্রহ করেছিল। গুণগত মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা এসব সাদরে গ্রহণ করেছে। এ কারণে তারা এ বছরও বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত কয়েক বছরে চীনের শ্রমমূল্য অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশে যেখানে একজন পোশাক শ্রমিকের মজুরি মাসে ৮০-৯৫ ডলার সেখানে একজন চীনা পোশাক শ্রমিকের মাসিক বেতন এখন প্রায় ৩১৬ ডলার। সে হিসাবে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনলে চীনা উৎপাদকদের খরচ ৫-১০ শতাংশ কম হয়।
এছাড়া, চীনের নতুন প্রজন্ম আর পোশাক কারখানায় কাজ করতে আগ্রহী নয়। এ কারণে এখানে দক্ষ শ্রমিকেরও অভাব দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে। এই দুই কারণ এবং অপেক্ষাকৃত সস্তা শ্রমবাজারের কারণে উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিতে চাইছে চীনা উৎপাদকরা।
বাংলাদেশের পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ চীনের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। এছাড়া এ দেশের পোশাকখাত এখন অনেক বেশি পরিণত।
শ্রমমূল্য বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পোশাকের দাম ধরে রাখতে ২০১৫ সালের মধ্যে চীনের কারখানাগুলোকে সুলভশ্রমের দেশে স্থানান্তর করতে হবে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ কারখানাই স্থানান্তর করতে হবে দক্ষিণ এশিয়ায়। এর বড় একটি অংশ বাংলাদেশ ধরতে পারবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “গত ছয় মাসে বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। শুধু ভ্যাঙ্কল নয় চীনের আরো অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় চীনা ব্যবসায়ীরা পণ্য তৈরির কাজটা এখন বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে করিয়ে নিতে চাইছে।”
বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ থেকে চীনে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪৯ শতাংশ। এছাড়া, সম্প্রতি চীন বাংলাদেশকে বেশ কিছু পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানির সুযোগ দেয়ায় চীনে রফতানির পরিমাণ অনেকব বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
জেপি/সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম