 |
ঢাকা: গত নভেম্বরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা প্রার্থনার পর অবশেষে আফগানিস্তানে ন্যাটোর রসদ সরবরাহ পথ খুলে দিতে রাজি হল পাকিস্তান। বুধবার ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে। এ মুহূর্তে পাকিস্তান ওই পথ খুলে দেওয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ’ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান মনে করছে, এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভূক্ত দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নয়ন হবে।
এদিকে, পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে পাক তালেবান। তারা ওই পথে রসদ সরবরাহের ট্রাক বহরে হামলার হুমকি দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খারের টেলিফোনে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত আসে। এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হিলারি একটি বিবৃতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানের যেসব সেনা সেদিন জীবন হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানিয়েছি।”
সংবাদ মাধ্যম মারফত জানা যাচ্ছে, মার্কিন সিনেটে বাতিল করা পাকিস্তানের সামরিক খাতের একশ’ কোটি ডলারের অনুদানও এখন ছাড় দেওয়া হতে পারে।
বিবৃতিতে হিলারি আরো বলেছেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী খার এবং আমি পাক সেনাদের প্রাণহানির প্রেক্ষিতে যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা আমরা উভয়ে স্বীকার করেছি। আমরা তাদের মৃত্যুর জন্য দুঃখিত। আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এ জন্য আমরা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
এদিকে ইসলামাবদও নিশ্চিত করেছে, তারা সরবরাহ পথ খুলে দেবে এবং এর জন্য অতিরক্তি ট্রানজিট ফি নেবে না। যদিও এর আগে ট্রানজিট ফি নিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছিল তারা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি ট্রাকের জন্য নির্ধারিত ফি ২৫০ ডলার অপরিবর্তিত থাকছে। এর আগে প্রতি কন্টেইনারের জন্য পাকিস্তান ৫ হাজার ডলার দাবি করেছিল।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর