ঢাকা: একটি রিরোলিং মিলের ছাড়পত্র নিয়ে তিনটি রিরোলিং মিল ও স্টিল মিল স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি ও পরিবেশ দূষণের দায়ে একটি স্টিল মিলের ব্যবস্থানা পরিচালককে ১৬ লাখ টাকা জড়িমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বুধবার অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপায় প্রিমিয়ার স্টিল রিরোলিং মিলস (প্রাঃ) লিঃ নামক কারখানায় এ অনিয়ম ধরা পড়ার পর কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনকে ১৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে কারখানাটি বন্ধের নির্দেশ দেন।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্দেশ মোতাবেক বিকেলেই উৎপাদন বন্ধের আদেশ কার্যকর করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ কারখানায় ফিউম এক্সট্রাকশন সিস্টেম না থাকায় সৃষ্ট ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কারখানার দূষিত বায়ুতে পরিপূর্ণ এ ধোঁয়ায় ভারী ধাতব পদার্থ লেড ও ক্রোমিয়াম রয়েছে, যা আশেপাশের বাতাসকে প্রচণ্ডভাবে দূষিত করছে।
দৈনিক ১২ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানাটির মালিক বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, বায়ু দূষণ নিরোধক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশ আইনের উদ্দেশ্য ইত্যাদি বিষয়ে চরম অজ্ঞতা প্রদর্শন করেন। শুধু বিনিয়োগ, ব্যবসা ও লাভ ছাড়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।
দণ্ড প্রদানের পর কারখানার মালিকসহ অপর পরিচালককে পরিবেশ দূষণ, পরিবেশ সুরক্ষা, দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, দূষণ বিরোধী প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী কাউন্সেলিং করা হয়।
তিনি আরও জানান, রিরোলিং ও স্টিল মিলে এমএস রড, অ্যাঙ্গেল, বার ও ইনগট প্রস্তুত হয়। এ কার্যক্রমে ব্যাপক বায়ু দূষণ ঘটে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এ জাতীয় কারখানায় ফিউম এক্সট্রাকশন সিস্টেম স্থাপন বাধ্যতামূলক। জনস্বার্থে কারখানার ছাড়পত্র প্রদান কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫০ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১২
এএমএন/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর