ঢাকা: সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগে বিএনপির সাবেক সাংসদ হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে তার স্ত্রী মাফরোজা সুলতানার বিরুদ্ধেও বিশেষ জজ আদালতে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম চার্জশিট দাখিল করেন।
দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য মঙ্গলবার রাতে বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত বছরের ১৬ আগস্ট রাজধানীর গুলশান মডেল থানায় দুদকের উপ পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
ভোলা-২ আসনে চারদলীয় জোটের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা হাফিজ ইব্রাহিমের ছোট ভাই তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন।
মামলার চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটকের টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী সিমেন্স বাংলাদেশকে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন হাফিজ ইব্রাহীম। এ জন্য তিনি সিমেন্সের কনসালট্যান্ট জুলফিকার আলীর কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ নেন। ঘুষের এ টাকা সিংঙ্গাপুরের ব্যাটারি রোডে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি যৌথ হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়। ওই ব্যাংকের হিসাবটি হাফিজ ইব্রাহীম ও তার স্ত্রীর নামে।
চার্জশিটে আরো বলা হয়, জুলফিকার আলী সিমেন্সের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলেন। সিমেন্সের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জুলফিকার আলী ও তার স্ত্রী রহিমা আলীর নামে সিংঙ্গাপুরস্থ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ব্যাটারী রোড শাখায় একটি যৌথ হিসাব খোলা হয়। ঘুষের ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার হাফিজ ইব্রাহীম ও তার স্ত্রীর নামে জমা করা হয়। তৎকালীন বিটিটিবির (বর্তমানে বিটিসিএল) আওতাধীন মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের টেন্ডার সংক্রান্ত কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তাকারীদের ঘুষ প্রদান এবং সিমেন্সের কনসালট্যান্টদের ফি প্রদানের জন্য সিমেন্সের বিভিন্ন অফিস থেকে ওই একাউন্টে টাকা পাঠানো হতো।
সিমেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড টেলিটক মোবাইল কোম্পানির কাজ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাক্তিকে ঘুষ দেয়। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে মার্কিন সরকার বাদী হয়ে কলম্বিয়া ডিস্ট্রিক কোর্টে (যুক্তরাষ্ট্র) সিমেন্স বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৮ সিআর ৩৬৯। ওই মামলায় সিমেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ অপরাধের কারণে তারা আদালতের ঘোষিত রায় (আরোপিত দণ্ড) মেনে নিয়েছেন।
দুদক সিঙ্গাপুর থেকে ঘুষের টাকা জমা হওয়া ও পাচার হওয়ার নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০০৮ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০৯ এর ২(ট),(অ) এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২০১ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১২
এডিএ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর