 |
ঢাকা: রফতানি বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার জন্য আসছে ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে বিবেচনার জন্য দশ দফা প্রস্তাব দিয়েছে এক্সর্পোটার্স অ্যাসোসিশেন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।
ইএবি বাংলানিউজকে এসব প্রস্তাবের বিষয় নিশ্চিত করেছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে আসছে বাজেটে বিবেচনার জন্য উৎসকর, ডলার হার নির্ধারণ, নগদ সহায়তা, ব্যাংক ঋনের সুদের হার, ফ্যাক্টরি স্পেস ভাড়ার ওপর ভ্যাট, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, ডরমিটরি নির্মাণ, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট) স্থাপন সংক্রান্ত দশ দফা প্রস্তাব করে ইএবি।
উৎসে কর সংক্রান্ত প্রস্তাব
তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ সকল রফতানি পণ্যের আয়-এর বিপরীতে ০.২৫% উৎসে কর নির্ধারণ করার এবং চুড়ান্ত কর নিষ্পন্ন হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। তবে, সকল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১৫% আয়কর বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।
ডলার হার নির্ধারণ
সকল রফতানিমুখী শিল্প খাতের বিপরীতে ব্যাংক কর্তৃক “এক ও অভিন্ন” (Unified) ডলারের হার প্রবর্তন করার প্রস্তাব করা হয়।
নগদ সহায়তা
রফতানিমুখী শিল্প খাতে নগদ সহায়তা ১০০% করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়।
ব্যাংক ঋণের সুদের হার
রফতানি-বাণিজ্যের বিপরীতে ব্যাংক সুদের হার সর্বোচ্চ ৮% করার প্রস্তাব করা হয়।
ফ্যাক্টরি স্পেস ভাড়ার ওপর ভ্যাট
দেশের অধিকাংশ রফতানিমুখী শিল্পের কারখানা ভাড়ায় বিভিন্ন ভবন অথবা ভবনের স্পেসে স্থাপিত। এই ভাড়াকে ১০০% ভ্যাটমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ
রফতানিমুখী নতুন শিল্প কারখানা এবং বিদ্যমান কারখানার বিএমআরই প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।
বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গঠন
পোশাক শিল্পখাত, আইটিসহ সেবাখাত এবং অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্পখাত-এর জন্য সরকার কর্তৃক বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গঠন এবং ইপিজেড-এর ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়।
শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণ
শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ ফান্ড হতে উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের প্রস্তাব করা হয়।
শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ
শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যম প্রশিক্ষণ দেয়া এবং এই কার্যক্রমের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।
এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট(ইটিপি) স্থাপন
সরকারিভাবে এলাকাভিত্তিক সেন্ট্রাল ইটিপি স্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ৩% ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ইটিপি স্থাপনের সুবিধা এবং ইটিপিতে ব্যবহৃত সব রাসয়নিক দ্রব্য আমদানী ১০০% করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়।
একই সাথে এসব প্রস্তাবের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ সচিব, ব্যাংকিং বিভাগ সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দেয়া হয়।
দশ দফা প্রস্তাবের বিষয়ে ইএবি প্রেসিডেন্ট সালাম মুর্শেদী বাংলানিউজকে বলেন, গত এপ্রিলে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি লক্ষমাত্রার তুলনায় ৭% কমেছে। চলতি অর্থ বছরের ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত) লক্ষমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাবগুলো করেছি।
বাংলাদেশ সময়: ২২২০ ঘণ্টা, মে ৩০, ২০১২
টিএইচ/সম্পাদনা : আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর