কুমিল্লা: বেপজার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রোববার বিকেলে অবশেষে দীর্ঘ ৪ বছর বন্ধ থাকার পর কুমিল্লা ইপিজেডের মেসার্স ডি এন্ড এস মোড (বিডি) লিমিটেডের ৭৮২ জন শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
বিকেলে কুমিল্লা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সোবহানসহ কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের যাবতীয় বকেয়া পরিশোধ করা হয়।
ইপিজেড সূত্র জানা যায়, কুমিল্লা ইপিজেডের শিল্প প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডি এন্ড এস মোড (বিডি) লি. (বর্তমানে মেসার্স ওয়াসিস হাই-টেক স্পোর্টসওয়্যার লি.) ২০০৮ সালের ৭ই ডিসেম্বর শ্রমিকদের মারামারি ও ভাঙচুরের ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৪ বছর ৩ মাস পর বেপজার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নতুন মালিক কর্তৃক উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু এবং বেপজা নির্দেশিকা অনুযায়ী শ্রমিক ও কর্মচারীদের ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের তথা ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসের পূর্ণ বেতন ও ডিসেম্বর মাসের ৭ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ টারমিনেশন বেনিফিট প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সে অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের আইডি কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা প্রদানের জন্য কোম্পানি কর্তৃক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যে সকল শ্রমিক/কর্মচারী তাদের কাগজপত্র কোম্পানির কাছে জমা দিয়েছিল তাদের মধ্য হতে শনিবার নিটিং সেকশনের শ্রমিক-কর্মচারীদের এবং রোববার অন্যান্য সেকশনের শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা ইপিজেডস্থ মেসার্স ডি এন্ড এস মোড (বিডি) লি. সম্পূর্ণ বিদেশী মালিকানাধীন একটি সুয়্যেটার উৎপাদকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে উৎপাদনরত ছিল। যার শ্রমিক সংখ্যা ছিল ৭৮২ জন।
গত ২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর ওই বছরের নভেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ করতে না পারায় বেশ কিছু উৎশৃংঙ্খল শ্রমিক কর্তৃক কারখানা ভবন ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ফলে শ্রমিকদের ২০০৮ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ৭ দিনের বেতন অপরিশোধিত রেখে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
কুমিল্লা ইপিজেডের জিএম আব্দুস সোবহান বাংলানিউজকে জানান, কোম্পানির নতুন মালিক পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করায় প্রায় ২৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
বিপুল পরিমাণ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ফলে ইপিজেড সংলগ্ন এলাকা তথা কুমিল্লার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ২০২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৩
সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর