নিউইয়র্ক : বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইন্সের কনসলিডেটর ও স্টকহোল্ডার নিউইয়র্কের ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্র্যাভেল সার্ভিস’ গত ২৫ বছরে দেড় শ‘ মিলিয়ন ডলারের (১২০০ কোটি টাকা) ব্যবসা করেছে। প্রায় দু’লক্ষাধিক টিকিট বিক্রি করে এ আয় হয় তাদের ।
আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইত্তেহাদ, গাল্ফসহ বিশ্বের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রয়ের যোগ্যতা অর্জনকারী তথা এআরসি (এয়ারলাইন্স রিপোর্টিং কর্পোরেশন) লাভকারী একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কম্যুনিটিতেও নিজ অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। গ্রাহক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে এই ট্র্যাভেল প্রতিষ্ঠান এ যাবত যত টিকিট বিক্রি করেছে তার ৯৮% গ্রাহকই বাংলাদেশি।
এ তথ্য জানান, প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার চাঁদপুরের সন্তান নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নিউইয়র্ক রুটে চালু থাকলে হয়তো আরো বেশী ব্যবসা হতো। আরো বেশী মানুষের সুযোগ-সুবিধা থাকতো। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনার পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে।
এটি সহসা চালু হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে চালু হলে প্রবাসীরাই শুধু নন, দেশ থেকে নবাগত ইমিগ্র্যান্টদের নানা টেনশনের অবসান ঘটবে। নাজমুল হুদা এ সংবাদদাতাকে বলেন, গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সিটি থেকে কমপক্ষে ২০ হাজার বাংলাদেশি পরিবার ঢাকায় যাচ্ছেন। সদস্য সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্কুল-কলেজে গ্রীষ্মের ছুটি হওয়ায় প্রতি বছরই এ সময়ে অনেকে দেশে যান। তবে এবার সে সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কারণ, গ্রীষ্মের ছুটির পাশাপাশি রমজান ও ঈদও উদযাপন করা সম্ভব হ্েছ এবার।
১৯৮৭ সালে ম্যানহাটানের ১১৭০ ব্রডওয়েতে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্র্যাভেলর বর্তমানে শাখা রয়েছে ৩টি। কয়েক বছর আগে ম্যানহাটানের প্রধান শাখা স্থানান্তর করা হয় জ্যাকসন হাইটসে সোনালী এক্সচেঞ্জের পাশে। ব্রুকলিনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এবং কুইন্সের জ্যামাইকায় শাখা রয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকেই এ প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয় আমিরাত এয়ারলাইন্সের সাথে। এরপর শুরু হয় অন্য এয়ারলাইন্সের ব্যবসা।
১৯৯৫ সাল থেকে বিমানের রুট চালুর পর এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার পরিধি বাড়ে। বিমানের রুট বন্ধ হওয়ায় কম্যুনিটির অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি নাজুক পরিস্থিতির শিকার হলেও ওয়ার্ল্ডওয়াইড থেমে থাকেনি। জেএফকে থেকে বিমান উড়ে না বলে বাংলাদেশিদের স্বদেশ ভ্রমণের আগ্রহে যেমন কোন ভাটা পড়েনি। একইভাবে নাজমুল হুদার ব্যবসায়ও ঘাটতি পড়েনি। অধিকন্তু পরিসর বেড়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে।
টিকে থাকার অদম্য আকাঙ্খায় এ ট্যাভেল এজেন্সিও তার পাখা মেলেছে বিভিন্ন রুটে। বলা হয়, ওয়ার্ল্ডওয়াইয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশিরা বিভিন্ন রুটে ঢাকায় যাতায়াতে উৎসাহিত হয়েছেন। জানা গেছে, উত্তর আমেরিকায় এআরসির নথিভুক্ত একমাত্র নাজমুল হুদার মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে আরো অনেক বাংলাদেশি সাব এজেন্সি নিয়ে টিকিট বিক্রি করছেন। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলংকানদের সাথে টেক্কা দিয়ে নিউইয়র্কে সগৌরবে টিকে রয়েছে নাজমুল হুদার এ প্রতিষ্ঠান।
জেএফকে থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ হলেও প্রতিদিন গড়ে দুটি করে ফ্লাইট যাচ্ছে ঢাকায়। এগুলো মধ্যপ্রাচ্য অথবা লন্ডন হয়ে ঢাকায় যায়। এসব এয়ারলাইন্সই এখন বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেবার মানও বেশ উন্নত। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যাত্রীরা বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে দরদাম যাচাই করে টিকিট ক্রয় করতে সক্ষম হচ্ছেন।
ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্র্যাভেল ব্যবসার পাশাপাশি কম্যুনিটি সার্ভিসেও নিয়োজিত রয়েছে। কম্যুনিটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। একইভাবে বাংলাদেশের যে কোন দুর্যোগে তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে। ইতিপূর্বে নিউইয়র্ক রুটে বিমানের সার্ভিস চালু রাখার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ডওয়াইড নানাভাবে চেষ্টা তদ্বিরকারীদের পাশে ছিল।
কম্যুনিটির সবচেয়ে পুরনো এবং সর্ববৃহৎ এ প্রতিষ্ঠান যাত্রীদের জন্যে কিছু টিপস দিয়েছে। তা হচ্ছে ভ্রমণের অন্তত: ৪ মাস আগে টিকিট ক্রয় করতে হবে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য। বর্তমানে সবচেয়ে কমদামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে কুয়েত এয়ারলাইন্সে। এরপর রয়েছে কাতার, ইত্তেহাদ। সবচেয়ে বেশী দাম নিচ্ছে আমিরাত।
বাংলাদেশ সময় : ২০০৭ ঘন্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
সম্পাদনা : সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
kumar.sarkerbd@gmail.com