 |
ঢাকা: ‘গ্রামীণব্যাংক (সংশোধন) আইন ২০১২’ সহ চারটি আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে মোট পাঁচটি বিষয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘গ্রামীণব্যাংক (সংশোধন) আইন ২০১২’-এর চূড়ান্ত অনুমোদনসহ ‘ওয়াকফ (সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান আইন ২০১২’, ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন ২০১২’ এবং ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন ২০১২’-এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিসিক বাস্তবায়িত চারটি দারিদ্র্য বিমোচন সমাপ্ত প্রকল্পের সমন্বয়ে ‘ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প ফাউন্ডেশন’ গঠনের প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এর আগে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ যেটা মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেটাই এবার আইন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে নতুন আর কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদের এ অধিবেশনেই এটা বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে তিন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি সিলেকশন কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে। সিলেকশন কমিটি আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনজনের একটি প্যানেল মনোনীত করে তা ব্যাংকের বোর্ডে জমা দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এর মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ দেবে বোর্ড।
‘ওয়াকফ (সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান আইন ২০১২’ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, এখানে ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়নে কিছু বিধি বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিসিকের অধীনে সম্প্রতি শেষ হওয়া চারটি দারিদ্র বিমোচন প্রকল্পের সমন্বয়ে একটি ‘ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প ফাউন্ডেশন’ গঠনের অনুমোদন প্রদান প্রসঙ্গে সচিব বলেন, প্রস্তাবটি এর আগে মন্ত্রিসভায় ‘ট্রাস্ট’ গঠনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে এটাকে ট্রাস্ট নয়, ফাউন্ডেশন গঠন করার প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছিল।
‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০১২’-এর খসড়া অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এর আগে অধ্যাদেশ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার জন্য এটাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (আদালত) (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০১২’-এর খসড়া অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশোধনী অনুযায়ী এখন থেকে এ আদালতে মামলার রায় ঘোষণার দিনই রায়ের সার্টিফাইড কপি (স্বাক্ষরিত নথি) বিবাদী পক্ষকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে মামলার রায়ের কপি পেতে আগে যে সময় লাগতো সেটা আর লাগবে না।
তিনি বলেন, অপরদিকে আপিল করার জন্য আগে নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৬০ দিন। এখন সেটা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে পদ্মাসেতু ও সোনালী ব্যাংক নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে স্বাস্থ্য বিষয়ক কোনো কিছু ছিল না। তাই সোমবারের বৈঠকে তার আসার কথা ছিল না।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১২
এসআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর