 |
ঢাকা: আগামী শনিবার ২২ ডিসেম্বর থেকে গাজী টিভিতে ‘পয়মন্ত’ ধারাবাহিক নাটকের প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতি শনি ও রোববার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে নাটকটি দেখতে পাবেন দর্শকরা।
শৌর্য দীপ্ত সূর্য রচিত ও হাসান শিকদার পরিচালিত ধারাবাহিক নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির, নাদিয়া আহমেদ, রওনক হাসান, ফারজানা ছবি, আ খ ম হাসান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, সাজ্জাদ রেজা, কে এস ফিরোজ, খালেদা আক্তার কল্পনা, হান্নান শেলী, শেলী আহমেদ, সিরাজুল করিম, কোহিনুর কেয়া, জামাল রাজা, শিশির, আহমেদ ফারুক এবং আরো অনেকে।
‘পয়মন্ত’ ধারাবাহিকটির কাহিনী গড়ে উঠেছে, আমাদের দেশ-সমাজের ভালো এবং মন্দ মানুষের মধ্যকার চিরকালীন দ্বন্দ্বকে ঘিরে। জাতীয় জীবনের সকল অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে কৃষ্ণপুর গ্রামের মন্দ মানুষগুলোর কার্যকলাপকে তুলে ধরা হয়েছে এ নাটকে। অনিবার্যভাবে তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় ভালো মানুষগুলোর।
এ পরিস্থিতিতে গ্রামে কথিত এক বিষধর সাপের আনাগোনার খবর পাওয়া যায়। ‘পয়মন্ত’ নামের এ কল্পিত সাপের গ্রামে অবস্থানের খবরে মন্দ মানুষেরা ভালো হয়ে যেতে শুরু করেন। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভালো আর মন্দের চিরকালীন দ্বন্দ্ব।
এ দ্বন্দ্বের নিরসনেও প্রাণপ্রদীপে আলো জ্বালিয়ে গ্রামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে চায় পয়মন্ত।
এ পয়মন্ত সাপ থাকার কথা বা কল্পনা যেন আমাদের ভালোর দিকে যেতে সাহায্য করে বা বাধ্য করে, সে কামনাই করা হয়েছে ‘পয়মন্ত’ ধারাবাহিকে।
মন্দ থেকে ভালোর পথে যাওয়ার আহ্বান তাই নাটকটির উপজীব্য।
কাহিনী সংক্ষেপ
লতিফ চেয়ারম্যানের বড় ছেলে মোহিত সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বাড়িতে এসে এক অদ্ভূত বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তিনি দেখতে পান, আমাদের জাতীয় জীবনে যে সকল অবক্ষয় রয়েছে তা পুরোপুরি বিদ্যমান তার নিজ গ্রাম কৃষ্ণপুরে। আর এই অবক্ষয়ের পেছনে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন তারই বাবা ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছোট ভাই রশিদ।
কৃষ্ণপুর গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি, কালোবাজারি সর্বোপরি রাজনৈতিক হানাহানি। এতে জড়িয়ে পড়েছেন সমাজের অন্যান্য প্রভাবশালীরাও। মোহিত ভালোবাসেন তার বাবার প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী সোবাহান প্রামানিকের মেয়ে রাশাকে। এক পুঁজি করে ছেলেকে বাবার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিতে চেষ্টা করেন রাশার বাবা।
গ্রামের মানুষ যখন দুই পক্ষে হানাহানি করে ক্লান্ত, ঠিক তখনই গ্রামে প্রবেশ করেন এক বেদে আর বেদেনি। মানুষের সরলতা এবং অসচেতনতা যেমন তাদের উপার্জন বাড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি মন্দ মানুষদের বাড়িয়ে দেয় এক ধরনের আতঙ্ক। বেদেনি কুঞ্জ ও বেদে কুমুদ সমাজবিরোধীদের অনেক অপকর্মের সাক্ষী হন।
এ কারণেই এক রাতে বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাদেরকে গ্রাম ছাড়তে হয়। রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তারা ফেলে যান কথিত ‘পয়মন্ত’ সাপের ডালাটি। আর তা থেকেই গ্রামের সবার ধারণা জন্মে যে, সেই বিষধর পয়মন্ত সাপ গ্রামেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
শুরু হয় নাটকীয়তা। বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। চোর বাধ্য হন চুরি ছেড়ে দিতে, মহাজন খান না সুদ, দুধে কেউ মিশান না জল, খারাপ কাজে কেউ পান না বল। চোর যখন শোনেন না ধর্মের কাহিনী তখনই ছুটে আসে সেই পয়মন্ত সাপ। জনে-জনে, মনে-মনে, ঘরে-ঘরে ছুটে বেড়ায় সে।
কিন্তু কথিত এ পয়মন্ত সাপ কেউ দেখেন, কেউ দেখেন না এমন প্রচার রয়েছে। চোর হয়ে যান পাহারাদার, ডাকাত হয়ে যান সাধু।
কিন্তু আমাদের সমাজের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যবস্থা কি অতি সহজেই বদলে ফেলা যায়? বরং, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মন্দ থেকে ভালো হবার সন্ধিক্ষণে তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। তারপরও অনন্তকাল থেকে চলে আসা ভালো এবং মন্দ মানুষের মধ্যকার চিরদ্বন্দ্ব নিরসনে প্রাণপ্রদীপে আলো জ্বালিয়ে গ্রামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে চায় পয়মন্ত।
বাস্তবে পয়মন্ত সাপ বলে কিছু থাক বা না থাক, এ পয়মন্ত সাপ থাকার কথা বা কল্পনা যদি আমাদের ভালোর দিকে যেতে সাহায্য করে বা বাধ্য করে তাহলে দোষের কি?
এভাবেই এগিয়ে যায় ধারাবাহিকটির গল্প।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০১২
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com