ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচক ও লেনদেনের সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ’র (ডিএসই) লেনদেন। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির শেয়ার ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ারের দাম।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির প্রথম লেনদেন শুরু হয়।
বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির মোট ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকার।
এদিন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৮ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৫৬ দশমিক ৯ টাকায় লেনদেন হয়।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত ‘এন’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা এবং মার্কেট লট ১০০টিতে।
বৃহস্পতিবার এ কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬৭৯ কোটি ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বাজারে এ কোম্পানির মোট ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৯ হাজার ১৭০টি শেয়ার রয়েছে। যার মধ্যে সরকারের কাছে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।
কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ লাখ শেয়ার সংরক্ষিত।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় কম আবেদন জমা পড়ায় লটারি ছাড়াই বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার পেয়েছেন সাধারণ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তবে এ কোম্পানির আইপিওতে সামগ্রিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৩৪ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।
এ কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৮৪ কোটি টাকার শেয়ার নির্ধারিত থাকলেও আবেদন জমা পড়েছিল ৭৫ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ারের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ৫ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকার। তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোটায় ১০ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের জন্য ১৬৯ কোটি ৮০ লাখ ৮৮ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছিল। সব মিলিয়ে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ারের বিপরীতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা ২৫৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার আবেদন জমা দিয়েছিলেন।
১০০ শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারিত হওয়ায় মোট ৩ লাখ আবেদনকারী সাবমেরিন কেবলের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত ২ কোটি ৪০ লাখ, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য সংরক্ষিত ৩০ লাখ এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ লাখ শেয়ার সংরক্ষিত ছিল।
অন্যদিকে,বৃহস্পতিবার লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষে থাকা লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৩ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩৯ টাকায় লেনদেন হয়। গত কার্যদিবসের এ কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল ৩৯ দশমিক ২০ টাকা।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) ডিএসই’র শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে- বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির মোট লেনদেন হয় ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ৬ কোটি ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রামীণ ফোন ৫ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ৪ কোটি ৫২ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা, লংকা-বাংলা ফিন্যান্স ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ৩ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা, এমআই সিমেন্ট ৩ কোটি ২০ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা, যমুনা অয়েল ২ কোটি ৯৯ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা এবং বেক্সিমকো লি. ২ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ১০০ টাকা।
ভলিউম বিক্রির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ ১০ কোম্পানি হচ্ছে- লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ ভলিউম, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ ভলিউম, ন্যাশনাল ব্যাংক ১২ লাখ ৬০ হাজার ১০০ ভলিউম, ইউনাইটেড এয়ার ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৪০০ ভলিউম, সিটি ব্যাংক ৮ লাখ ২০ হাজার ১০০ ভলিউম, জিবিবি পাওয়ার ৭ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ ভলিউম, আরএন স্পিনিং ৫ লাখ ১৫ হাজার ভলিউম, লংকা বাংলা ফিন্যান্স ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ ভলিউম, ইউসিবিএল ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ ভলিউম এবং প্রিমিয়ার লিজিং ৪ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ভলিউম।
বাংলাদেশ সময়: ১৬২০ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এসএনএইচ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর