 |
ঢাকার এককোনায় মাণ্ডা এলাকায় যে বাসায় নায়েম থাকে সেখানে গ্যাস নাই। রাতে বাসায় যাবার সময় মোড়ের ভাতের দোকান থেকে তরকারি নিয়া যায়। কোনোদিন আলুর ঝোল দিয়ে ডিম, কোনোদিন সস্তা পাঙ্গাস অথবা নলা মাছ রান্না ইত্যাদি। তিনদিন ধরে বাকিতে নেয়া হয়েছে। চাকরি যাবার পর ঘর থেকে তেমন বের হয় না। মানে এই এলাকায় আড্ডা মারেনা। যেহেতু প্রতিদিন সে তরকারি কেনে ভাতের দোকানদার আবুহেনা তাকে খানিকটা সমীহই করতো। কিন্তু একনাগাড়ে তিনদিন টাকা না দিয়া তরকারি নেয়ায় তার বুকে কচকচ করে। জমানা খুব খারাপ। নায়েমের ভাবগম্ভীর চিন্তিত মুখ দেখে খানিকটা অস্বস্তিও হয় তার।
চতুর্থদিন সকালে নায়েমের ঘুম ভাঙ্গে প্রচণ্ড গরম আর ক্ষিধায়। এই এলাকাটা প্রচণ্ড গরম। আর পূর্বদিকের যে রুমটায় নায়েমরা থাকে সূর্য ক্রমশ উপরের দিকে উঠার সাথে সাথে তাতানো রোদের গরমে ঘরটা যেন সেদ্ধ হতে থাকে। তিনমাস ধরে চাকরি খুঁজছে সে। ঢাকার অফিসগুলাতে খুব খারাপ অবস্থা চলছে। এইটা মালিকদের ভাষ্য। অথচ দেখা যায় প্রতিনিয়ত সুন্দর সুন্দর গাড়ি বদলায় তারা, চকচক করে অফিস। তাও নায়েম দমে না। একটার পর একটা অফিসে নিজের বায়োডাটা জমা দিচ্ছে সে। বেঁচে থাকতে হবে তো। ক্ষুধা আর রোদে ঘুম ভাঙ্গার পর বাথরুমে গিয়া দেখে পানি নাই। শরীর থেকে কেমন যেন একটা গন্ধ বের হচ্ছে। তার চেয়েও কঠিন হচ্ছে বাসাভাড়া। এই দিকটায় বাসাভাড়া কম বলেই আশ্রয় নিয়েছিল সে। কিন্তু একহাজার টাকা বাসাভাড়া জোগাড় করাও খুব কঠিন হয়ে পড়েছে তার জন্য। গতমাসেরটা একবন্ধুর কাছে ধার করেছিল। চলতি মাসে বারতিনেক বলে গেছে বাড়িওয়ালা। সে টুকটাক লেখালেখিরও চেষ্টা করে। লেখাগুলা বিভিন্ন জায়গায় পাঠায়। কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমির পত্রিকা উত্তরাধিকারে একটা কবিতা ছাপা হয়েছে নায়েমের। ওরা নাকি টাকাও দেয়। সে খোঁজ নিয়েছে এরমধ্যে। একজন বলল এতদিনে চেক হয়ে গেছে।
ওখানেই যাওয়ার মনস্থ করল নায়েম। কিন্তু মাণ্ডা থেকে বাংলা একাডেমি দশ কিলোমিটারের কম না। আর যেই রোদ মনে মনে খানিকটা দমে গেলেও টাকার অনিবার্যতা তাকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। খালি পেটে বাসা থেকে একটা বোতল নিয়া বের হয় সে। মাণ্ডা এক নম্বর পানির পাম্প থেকে বোতলটা ভরে নেয়। গভীর নলকূপ। পানিটা খুবই ঠাণ্ডা। খালি পেটে পানি খুব একটা ভাল না লাগলেও বোতলের অর্ধেকটা ঢেলে দেয় গলায়। কেমন যেন বমি বমি লাগে। তারপর বোতলটা ছোট ব্যাগে ভরে ব্যাগটা কাঁধে ফেলে দিয়ে সে হাঁটা শুরু করে। প্রায় মাসখানেক আগে মাত্র দেড়শ টাকায় একজোড়া চায়না রবারের জুতা কিনেছিল সে। খুবই হালকা কিন্তু রবারের হওয়ায় ভেতরে কোনোরকম বাতাস না ঢুকার জন্য খুবই গরম হয়ে যায় জুতাটা। গরমের চোটে নাকমুখমাথা থেকে দরদর করে ঘাম ঝরতে থাকে। গায়ের জামাটা ভিজে যায়।
দমে গেলে চলবে না, নায়েম জানে তাকে যে কোনো প্রকারে বাংলা একাডেমী পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। হঠাৎ বিদ্যুৎ যাবার মত বারবার তার চেতনায় ধাক্কা দিচ্ছিল একটা সংলাপ ‘একটা পয়সা পর্যন্ত নাই কোথাও! এরকম কখনো হয় নাই আগে, আগাও নায়েম, এগিয়ে যাও, এছাড়া গত্যন্তর নাই।’
বাংলাদেশের সব গরীব লোক মনে হয় এই এলাকায় থাকে। গার্মেন্টস কর্মি, বিভিন্ন ধরনের গাড়িচালক, মুদি দোকানদার, সবজি বিক্রেতা, মুচি, খুচরা ফল বিক্রেতা, ভিখিরি। রাস্তায় চলতে চলতে দেখা যায়, যে যার পসরা নিয়ে রাস্তার উপরেই সুবিধামত জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে গেছে। বেটারিচালিত শ্লথগতির অটো, রিক্সা তার উপর নিরন্তর অজস্র নিম্নবিত্ত মানুষের আনাগোনায় ধাক্কা না লেগে আগানোর উপায় নাই। এই ভয়ঙ্কর রোদে, ধুলার ভেতর অনেক মানুষের সাথে এগিয়ে চলেছে সে। এরমধ্যে হাঁটতে হাঁটতে থুথু ফেলছে একজন, একটু হলেই নায়েমের গায়ে লাগতো। ‘দেইখা থুথু ফেলতে পারেন না?’ লোকটা শুনেছে কিনা সন্দেহ।
কাফেলার মত আগাচ্ছে মানুষগুলা। প্রায়ই পিছন থেকে অটোর হেলপারগুলা চিৎকার করছে। ‘এই ভাই সরেন সরেন, লাগলে কইতে পারবেন না। সরেন বলছি।’ অটোগুলার সাইরেনগুলারে তেমন কেয়ার করে না চলমান মানুষের ¯স্রোত। দশমিনিট হাটার পর নায়েমের পা ব্যাথা করছে।
মাণ্ডাব্রিজের উপর কচুশাক বিক্রি করে প্রতিদিন এক বুড়ো। ভেজা গামছা গায়ে দিয়ে আধাশোয়া হয়ে থাকে লোকটা। একেবারে কঙ্কালসার, উদোম গা, শরীরের সবকটা হাড্ডি দেখা যাচ্ছে। নায়েম দাঁড়িয়ে পড়ে। আসলে তার পা ব্যাথা করছে। রবারের জুতার ভেতর মনে হচ্ছে আগুন ধরে গেছে।
‘আটি কত কইরা চাচা।’ শাকের আটিটা হাতে নিয়ে জিগায় নায়েম। পা থেকে জুতা খুলে জুতার উপর দাঁড়ায়। বুড়াটা তার জুতা খোলা দেখে একটু বিচলিত হয়, তাকায়। ‘দশ টিয়া’ দুহাতের আঙ্গুলগুলা মেলে দেখানোর চেষ্টা করে বুড়া। হাত দুইটা নেতিয়ে পড়ে। ‘পাঁচ টাকা দেয়া যায় না’ নায়েম কালক্ষেপণ করে। বুড়া হাতের উপর থেকে মাথাটা তুলে দুইদিকে দোলায়। জুতা থেকে পা বের করার পর নায়েমের মনে হয় পা দিয়ে ধুয়া বের হচ্ছে। আঙ্গুলগুলা ব্যাথা হয়ে গেছে।
‘লন’ শব্দ করে বুড়া। বুড়ার আওয়াজ এতই ক্ষীণ যে প্রথমে বুঝতে পারে নাই নায়েম। এটার জন্য সে প্রস্তুতও ছিল না। প্রথমত তার কাছে একটা পয়সাও নাই। তার উপর এই ভরদুপুরে সে যাচ্ছে এক কাজে, সে কচুশাক নিয়া কি করবে? সে দ্রুত পা ঢুকায় জুতার ভেতর। তারপর মানুষের স্রোতে মিশে যায়।
কমলাপুর ওভারব্রিজে উঠে আবার দাঁড়ায় সে। খানিকটা বাতাস আছে এখানে, ফলে গরমটা কম লাগে। গাড়িপথে হেটে গেলে অনেক সময় লাগবে। শর্টকার্ট মারার জন্য সে ভাবে ওভারব্রিজ পার হয়ে আরামবাগ হয়ে বেইলিরোড হয়ে রমনাপার্কের ভেতর দিয়ে সোহরোওয়ার্দি উদ্যান হয়ে বাংলা একাডেমিতে ঢুকবে। ওভারব্রিজ থেকে নামতেই আবার প্রখররোদের খপ্পরে পড়ে সে। কমলাপুর থেকে আরামবাগ পর্যন্ত রাস্তার একপাশে খুড়াখুড়ি চলছে। অনেকগুলা শ্রমিক চাপাতি কোদাল হাতে কাজ করছে। একেক খাবলায় মাটি বের করে ফুটপাতের উপর ফেলছে। এতে মানুষের চলাচলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। মানুষজন একেকজন করে সেই মাটির ঢিবি পার হয়ে যাচ্ছে। নায়েমের আগে আগে এক মধ্যবয়স্ক টেকো লোক ছাতা হাতে হাটছিল। সে খুবই বিরক্ত হল। ঢিবিটা পার হতে হতে লোকটা রেগেমেগে নায়েমের দিকে ফিরে তাকাল। ‘খানকিচুদির পোলারা জনগণের পাছামারার জন্য এই সব কাজ বাইর করে বুঝলেন? বালের কোনো সমস্যাই নাই এইখানে। প্রতি সপ্তায় দেখবেন খোড়াখুড়ি চলছে। একবার বলে পানি সমস্যা, একবার বিদ্যুৎ সমস্যা। আসলে কোনো সমস্যাই নাই বুঝলেন। পার্টির পোলাপাইনদের কাজ দেয়। চোদমারানির পোলারা দেশটা খাইয়া ফালাইলো।’
লোকটাকে পাশ কাটিয়ে না শোনার ভান করে এগিয়ে যায় নায়েম। শান্তিনগর চৌরাস্তা পার হয়ে সে বেইলি রোডে উঠে। বেইলি রোডের মোড়েই বেশ কয়েকটি সুদৃশ্য খাবার দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবারের ঘ্রাণ তার নাকে ধাক্কা মারে। একটা দোকানের সাইনবোর্ডে এক সুন্দরী তার উন্নত দুধের উপর বিশাল এক বার্গার নিয়া হাসতেছে। এসব দেখলে দুইটা ক্ষুধাই একসাথে জাগে।
বেখেয়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষিধাটা জেগে উঠল তার। মনে হচ্ছে ভেতরে নাড়িভুড়িগুলা ধরে টান দিয়েছে পাকস্থলী। মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেনা। পেছন থেকে যেন কেউ টান মারছে তাকে। কিন্তু নায়েম জানে থামলে চলবে না। সে এগিয়ে চলে।
অফিসার্স ক্লাবের সামনে থেকে রমনাপার্ক দেখা যায়। ভাবল পৌঁছেই গেছি। কিন্তু অফিসার্স ক্লাবের সামনে তাকে আটকালো পুলিশ। পুরারাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ বাহিনী। তারা বলছে কোন এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আসবে। ফলে এই রাস্তায় চলাচল বন্ধ। কাউকেই যেতে দিচ্ছে না। এই পথ দিয়ে যেতে ইচ্ছুক কয়েকজনের উদ্দেশে পুলিশ বলল ‘সরেন সরেন। জটলা কইরেন না। ওদিক দিয়া যান।’
যেদিক দিয়া যাবার জন্য পুলিশ সুপারিশ করছে সে অনেক দূর ঘুরে যেতে হবে। গরম আর ক্ষিধায় বিধ্বস্ত নায়েমের মনে হল সে পড়ে যাবে। সে পাশের দেয়ালের সাথে নিজেকে ছেড়ে দিল। তার নিশ্বাস ঘন হয়ে আসে। একটা লোক দেয়ালের দিকে পড়ে যাচ্ছে দেখে পুলিশের এক বড় কর্তা আগায়া আসলো। ‘কি সমস্যা’ বলল অফিসার। সে সুঠাম দেহি অফিসারের দিকে তাকায়। মাথার মধ্যে কেমন যেন ঝিম মেরে আছে। সে কোনো প্রকার বলল ‘আমি অসুস্থ.. অইখানে একলোক বসে আছে।’ আঙ্গুল দিয়ে পার্কের দিকে দেখাল সে।
‘আপনি এদিকে আসেন’ তাকে ইশারা করল অফিসার। সে ব্যারিকেড পার হয়ে এগিয়ে গেল। অফিসারের ইশারায় এক পুলিশ তাকে তল্লাশি করলো। তারপর যান বলে ছেড়ে দিল।
সে আবার হাঁটতে শুরু করে। তার মনে হচ্ছে জুতার ভেতর পায়ের হাড্ডিগুলা যেন আলাদা হয়ে গেছে। অদ্ভুত এক ব্যাথা শুরু হলো পায়ের ভেতর। পার্কে ঢুকে একটু এগিয়ে প্রথম ইটপাতা বেঞ্চিতেই সে নিজেকে ছেড়ে দিল। তারপর দুপায়ের জুতা খুলে সামনে ছুঁড়ে দেয়। ভিজা দুর্গন্ধযুক্ত মোজাটা খুলে ঘাসের উপর রাখলো। পায়ের দিকে তাকালো, পা দুইটা লাল হয়ে গেছে। সে যে কোনোদিন এতদূর হাঁটে নাই তা না, ক্ষিধাটাই তাকে কাবু করছে বেশি তার মনে হলো। বোতলের বাকি পানিটুকু গলায় ঢেলে দিল সে। মিনিট দশেক পর উঠে দাঁড়াল। জুতাজোড়া হাতে নিয়ে ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটা দিল। রমনাপার্ক থেকে বের হবার আগে আবার জুতা পড়ে নিল। রাস্তাটা পার হয়ে ঢুকলো সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে। এবার আড়াআড়ি মিনিট দশেক হাঁটলেই বাংলা একাডেমি। পা যেন আর চলতে চায় না। গন্তব্যের খুব কাছে চলে এসেছে বলে একটু হালকাও লাগল তার। ক্ষিধাটাও অনেক কমে এসেছে। ‘না খেয়ে কত মানুষ বাংলাদেশে দিনযাপন করে জানো’ নিজেকে যেন সান্ত্বনা দেয়ার জন্য মনে মনে আওড়ালো সে।
বাংলা একাডেমির হিসাব বিভাগ তিনতলায়। খাড়া সিঁড়ি বেয়ে থেমে থেমে সিঁড়ির রেলিং ধরে উঠলো সে। তিনতলায় উঠতে তার খবর হয়ে গেল। হাঁপাতে হাঁপাতে হিসাব বিভাগে ঢুকল। হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা কার সাথে যেন কথা বলছে। ঘামে ভিজে গেছে তার শরীর। ফ্যানের নিচে দাঁড়িয়ে তার একটু আরাম লাগলো। আশেপাশের টেবিলগুলা দেখল কোনো পানির বোতল আছে কিনা।
‘কি চাই’ তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো পাওয়ারি চশমাপড়া কেরানিটা। ‘আমার একটা লেখা ছাপা হয়েছে গত সংখ্যায়।’ ‘কি নাম’ কেরানিটা বলল। নায়েম হোসেন সে বলে। লোকটা একটা চেকের বাণ্ডিল হাতে নিল। দেখে তার মনে হল এতক্ষণের এই পরিশ্রম যেন সার্থক। কিছুই না থাকার চেয়ে একটা চেক অন্তত থাকা ভাল। যদিও এই চেক আবার ব্যাংকে জমা দিতে হবে। দিনদুয়েক অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে চেকটা ক্যাশ হবে। তারপর টাকাটা তোলা যাবে।
কেরানিটা দুইজায়গায় তার দস্তখত নিল। চেকটা ছিড়লো। সে দেখল আটশ টাকার চেক। হঠাৎ চশমার ফাঁকে তাকিয়ে লোকটা বলল স্টেম্প এনেছেন?
কি স্টেম্প? নায়েম বলল।
রেভেনিউ স্টেম্প? পাঁচটাকা দাম। আমাদের নিচতলায় পোস্টঅফিস আছে। বললেই দেবে। লোকটা চেকটা একটা খাতার ভাঁজে রেখে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল।
নায়েমের মাথা যেন কাজ করছে না। কী করবে বুঝতে পারছে না। সামান্য পাঁচটাকা। যদিও তার কাছে একটাকাও নাই। এই পাঁচটাকার জন্য আটকে যাবে আটশ টাকা? সে একটা মিথ্যার আশ্রয় নিল। সে বলল ‘আমার কাছে পাঁচশ টাকার নোট, পাঁচটা টাকা দিন আমি নিয়ে আসছি। পরে আপনাকে দিয়ে দেব।’
লোকটা আবার চশমার ফাঁকে তার দিকে তাকালো। বলল আমার কাছেও নাই। একটা স্টেম্প নিয়ে আইসা চেকটা নিয়া যাইয়েন।
তাকে চলে যেতে বলা হচ্ছে। সে উঠে দাঁড়ালো। ধীরে ধীরে নামলো তিনতলা থেকে। তার মাথা কাজ করছে না। আবার হাঁটা শুরু করলো। দুপুর শেষের দিকে। রাস্তা পার হয়ে সে আবার ঢোকে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ছবিরহাট অংশে। ইটপাতা বেঞ্চগুলা খালি। আরেকটু পরে পার্কে লোকজন আসা শুরু করবে। একটা বেঞ্চ বেছে নিয়া সে শুয়ে পড়ল। মেলে দিল নিজেকে। একটু পরেই অতল ঘুমের মধ্যে তলিয়ে গেল।
বাংলাদেশ সময় : ১৭০০ ঘণ্টা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১২
সম্পাদনা : তানিম কবির