 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র মনজুর আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সূত্রে দুদক চসিকের কাছে প্রায় দেড় হাজার নথি তলব করেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেয়র মনজুর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে উন্নয়নের নামে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাবার পর এ তদন্তে নেমেছে দুদক।
তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক সিটি কর্পোরেশনের কাছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের এক হাজার ৩৮০টি নথি তলব করেছে। সোমবার দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সিটি কর্পোরেশনে পৌঁছেছে।
তদন্ত শুরুর সত্যতা স্বীকার করে দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মেজর ফয়সাল পাশা বাংলানিউজকে বলেন, “রাস্তা সম্প্রসারণ, কার্পেটিং, সংস্কারসহ আরও বিভিন্ন কাজে কিছু অনিয়মের অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। আমরা এগুলো তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। আমরা ফাইল তলব করেছি।”
অপরদিকে, সিটি কর্পোরেশনে দুদকের চিঠি পৌঁছানোর সত্যতা স্বীকার করে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, “চিঠিটি মেয়র সাহেবের কাছে আছে। কাল (মঙ্গলবার) আমার হাতে আসবে। এরপর আমরা ফাইলগুলো প্রস্তুত করে মেয়র সাহেবের কাছে পাঠাবো।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দু’টি ম্যাচ এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সরকারিভাবে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়। এ সময় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এম মনজুর আলম।
সূত্র জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরের পাঁচটি বিভাগের মধ্যে চারটি বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল দুদকের পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছে। এসব ফাইলের মধ্যে রয়েছে এক নম্বর বিভাগের ২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬৩ প্রকল্প, দুই নম্বর বিভাগে ৪৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৩৫ প্রকল্প ও ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৬টি প্রকল্প, তিন নম্বর বিভাগে ৫০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৪৭ প্রকল্প এবং চার নম্বর বিভাগে ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬৯টি প্রকল্পের ফাইল।
অভিযোগ আছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশন যখন এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল, তখন মেয়র এম মনজুর আলমের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের পাশাপাশি আরো নতুন ৫০০ ব্যক্তি ঠিকাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী।
চট্টগ্রামের ৪২৮ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করার ক্ষেত্রে ঠিকাদার হিসেবে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরাই বেশিরভাগ দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ আছে।
খোদ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদেরই অভিযোগ, দলীয় বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া এসব ঠিকাদারের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এসব ঠিকাদার যেসব সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করেন তা পরবর্তী তিন মাসেই উঠে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ সড়কই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কসহ কয়েকটি সড়কে কোনো ধরনের কার্পেটিং ছাড়াই উন্নয়ন কাজ শেষ করার অভিযোগও আছে। এসব সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ যথাযথ না হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই অনেক জায়গায় সড়কে গর্ত হয়ে গেছে। বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন স্থান ধসে পড়েছে।
এ ধরনের বিভিন্ন অনিয়মসহ প্রায় ৮৫ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ সম্প্রতি জমা পড়ার পর সেগুলো তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ নির্দেশের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় চিঠি ইস্যু করে বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশন। চিঠিটি সোমবার সকালে সিটি কর্পোরেশনে পৌঁছে।
চসিকের সচিব মো. সামশুদ্দোহা এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘দুদক যদি আমাদের কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমের ফাইল দেখতে চায়, তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৭ জুন প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসা এম মনজুর আলম।
সম্প্রতি এম মনজুর আলমকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নিযুক্ত করেছে বিএনপি।
বাংলাদেশ সময় : ১৯৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর