 |
এক.
ও মেঘ, বউয়ের মতো মেঘ; আমাকে প্রেমিকার
মতো ভেজাও-দ্যাখো, চিন্তার সোনালি আঁশ শুকিয়ে
যাচ্ছে। আমি তেমন প্রার্থনা জানি না- বড়জোর
ছেলেব্যাঙ-মেয়েব্যাঙে বিয়ে দিতে পারি-থু লেপে
ভিজিয়ে দিতে পারি নিজের শুকনো ঠোঁট।
মেঘ, তুমিও কি অপচয়ের ভয়ে আর আগের মতো
ঝরো না- জলখরচের ভয়ে আমি যেমন কান্নাকে
দূরে রাখি- থাক অতো হিসাব-নিকাশ- দ্যাখো,
চালতাফুল তাকিয়ে আছে অবিবাহিত খালাতো
বোনের মতো! যদি ভেজাও তুমি- হবো শাপলায়
ভরে যাওয়া মাঠ।
শুনো; গল্পের উঠান কি একাই ভিজবে আমাদের
সর্দি-কাশির অজুহাতে! এসো, ছাতাহীন হাঁটুরের মতো
ভিজি- আরো কাছে গিয়ে দেখি আষাঢ়ের ভেজা বউদি।
ও মেঘ, বউয়ের মতো মেঘ; আমাকে প্রেমিকার
মতো ভেজাও।
দুই.
জানালা থেকে দুই মিনিট দূরে, যে মাঠ ঘাসের ভেতর একাকি
ভিজে- আমি তাকে ভগিনীর বয়ফ্রেন্ডের মতো হিংসা
করি। কেননা, ডাক্তার তাকে কখনোই ভিজতে ‘না’ করেনি- তার
নেই সাইনোসাইটিস ঝামেলা, মোবাইল ভেজার ভয়।
সেদিন দূর থেকে তাকে ভিজতে দেখে আমি শেষ সিগারেটটিও
জ্বালিয়ে ফেলি- সিগারেটের সঙ্গে পুড়তে পুড়তে ভাবছিলাম: আগামী
আষাঢ়ের আগেই ঘরটা বাইরে নেওয়া যায় কি-না- ভাবতে ভাবতেই
পাড়ার মাস্তানের মতো ঝড়োহাওয়া এসে জানালা বন্ধ করার নির্দেশ
দিলো-আর আমি ভয় পেয়ে, গুমের ভেতর থেকে ঘুমের ভেতর চলে
গেলাম।
ঘুম থেকে বেরিয়ে দেখি, ওই বর্ষা-তৃপ্ত সবুজ মাঠেই একটা গরু ঘাস
খাচ্ছে একা- যার রাখাল হয়তো কখনোই খুঁজে পাবে না তার হারিয়ে
যাওয়া বাঁশি।
তিন.
আমাদের আঁকাআঁকির স্কুলে, ব্ল্যাকবোর্ডে যে কদমফুল এঁকেছিলেন
বর্ষা ম্যাডাম- তার ব্যাঞ্জনা কতটুকু, কার দিকে ছড়ালো- এনিয়ে
কখনোই ভাবিনি- কেনোনা, চকে আঁকা ওই ফুল মুছে গেলেও
বর্ষা ম্যাডাম থেকে যান- আর রঙিন ছাতা মাথায় নেলপলিশ-পা
টিপে টিপে হেঁটে বেড়ান পৃথিবীর পথে-পথে।
বর্ষা ম্যাডাম খুবই ম্যাডাম- কেনো না, ব্ল্যাকবোর্ডের উঁচুতে
কদমফুল মুছতে মুছতে তিনি আমাদের নাভীও দেখান।
আর কে না জানে, গভীরতা ও ব্যাঞ্জনার দিক থেকে নাভীফুলই
সবচেয়ে এগিয়ে।
চার.
আমাদের উদীচী ও চারুকলার আপুরা এবারও বেশ নাচ দেখালেন
বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানে- কেউ কেউ যথারীতি পুরনো রবিঠাকুরকেই নতুন করে
ঝরাতে চেষ্টা করলেন- মঞ্চ থেকে একটু দূরে, বৃষ্টি ও ভেজাবালিকাদের
প্রতি মুগ্ধতা রেখে আমরা গল্প করছিলাম- আমাদের একজন সিগারেট
ধরাতে ধরাতে বলল, ‘ছাত্রী হোস্টেলের মেয়েরাই সব’চে কার্যকর
বৃষ্টি- কেননা, ওদের শুকাতে দেওয়া একটা পুরনো ওড়না দেখেই
তুমুল ভিজে উঠি আমরা।’
আরেকজন কিছুটা অনাসক্ত গলায় বলল, ‘বাদ দে, ওই সব বৃষ্টি-টিষ্টি-
কোথাও একটা কলার ভেলাও দেখছি না যে ভাসবো- ভাসতে না জানলে
জাহাজ তো দূরের কথা একটা কাগজের নৌকাও হওয়া যায় না।’
এভাবেই, একথায়-ওকথায় রাত বাড়ে- আমাদের বর্ষাবিষয়ক আড্ডাও
যায় ভেঙে- কেবল গল্প পড়ে থাকে ছাতা ব্যবসায়ীদের ঘিরে!
বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, ১০ জুলাই, ২০১২