 |
| ছবি: জীবন আমীর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অরাজনৈতিক ও অসাংবিধানিক তৃতীয় শক্তিকে বিএনপি প্রতিহত করবে। যদি কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে তা হলে অবশ্যই আমরা তাদের ওয়েলকাম জানাবো।’
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “তৃতীয় শক্তি বলতে বুঝায় রাজনীতি বহির্ভূত শক্তি। যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে তাহলে অবশ্যই আমরা তাদের ওয়েলকাম জানাবো।’
‘বিএনপি কোনোকালেই অসাংবিধানিক ও রাজনীতি বহির্ভূত কোনো শক্তিকে সমর্থন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বরং এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’
রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ডিআরইউর সভাপতি মির্জা ফখরুলকে স্বাগত জানান। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।
অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার স্বাগত বক্তব্যের পরে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ পর্বে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, জবাব দেন মির্জা ফখরুল।
একে একে প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন মির্জা ফখরুলকে।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। সরকার যেহেতু আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করেনি, তাই তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তাদেরই।’
‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে জামায়াত জড়িত’ পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের এমন বক্তব্য সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মন্ত্রীরা যখন কথা বলেন তখন দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন কি না আমি জানি না। তবে এ বক্তব্যের পর তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় এ বিষয়ে সুর্নিদিষ্টভাবে প্রমাণ দেওয়ার।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি খুশি হয়েছি যে প্রধানমন্ত্রী ২৬৫ আসন থেকে ১৭৫ এ নেমে এসেছেন। তার এ ধরণের উপলব্ধিকে আমি স্বাগত জানাই। আমি আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে বলে আসছি মানুষের চোখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। দেওয়ালের লিখন দেখুন।’
ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে না। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে তো আগেই ক্ষমা করা হয়েছিল। এখন যেটা হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার। সরকার তো বলছে তাদের ক্ষমতা শেষ হওয়ার আগেই বিচার শেষ করবে। তাই আমরা ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত সে বিচার বাকি থাকলেও তখনই দেখা যাবে কি করা যায়।’
গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতা নিয়ে মন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ গার্মেন্টস শিল্পকে টিকিয়ে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সেজন্য দেশি বিদেশি চক্র থাকতেই পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য আমাদের দলের কাছে নেই। সরকারের কাছে থাকলে তা জানানো উচিত।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী অথবা নিরপেক্ষ যে নামেই হোক এ ধরনের সরকার ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ছাত্র রাজনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমানে ৮০ শতাংশ ছাত্রই রাজনীতি পছন্দ করে না। রাজনীতির জন্য এটা একটা অশনি সংকেত।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যদি রাজনীতি বিমুখ হয় তাহলে ভবিষ্যত রাজনীতি কারা করবে?’
ফখরুল বলেন, ‘আগামীতে যাতে ছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতি করতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে না আনলে নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি গৌন। তাই আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, পরে নির্বাচন কমিশন নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে আছেন, কবে নাগাদ ভারমুক্ত হতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা চেয়ারপারসনের বিষয়। আগামী কাউন্সিলের আগে চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত না নিলে কাউন্সিলেই সিদ্ধান্ত হবে।’
‘দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, জালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিএনপি তেমন জোরালো আন্দোলনে যাচ্ছে না কেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যত আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছি, যে কয়টি হরতাল দিয়েছি তার মধ্যে এ বিষয়গুলোও ছিল। আপনারা যদি ওই সময়ের লিফলেটগুলো দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন।’
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কলকাতায় ট্রামের ভাড়া ৫ পয়সা বাড়লে যেমন জনগণ তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে আমাদের দেশে সেরকম হয় না। আমরা যখন এসব বিষয় নিয়ে রাস্তায় নামি তখন সাধারণ জনগণের মধ্যে থেকে কম সাড়া পাই।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬০৫ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এমএম/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com