 |
খুলনা: একটা প্রশ্ন সবার মধ্যে খচখচানি দিচ্ছে, শাহরিয়ার নাফীস কী এভাবেই আউট হতে পছন্দ করেন। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হয়েও গতি বল খেলতে তিনি যে, মোটেও স্বচ্ছ্বন্দ বোধ করেন না তা তার আউট দেখলেই বোঝা যায়। শট পিচ বলে শরীর বাঁচাতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উভয় টেস্টেই তার আউটের ধরণ এক। টিম ম্যানেজমেন্ট তার ওপর আস্থা রাখলেও তিনি তার প্রতিদান দিতে পারেননি। উল্টো ইনিংস বিপর্যয়ের জন্য অনেকাংশে দায়ী। যদিও এই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শাহরিয়ারকে একা দোষ দেওয়া যায় না। নাজিমউদ্দিন, তামিম ইকবাল, নাঈম ইসলাম এবং মুশফিকুর রহিমও বোলারকে উইকেট দিয়ে এসেছেন। তাদের দায়িত্বহীনতায় ১৭.২ ওভারে ৮২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। তাদের মধ্যে ৪ জনকেই ফিরিয়েছেন দুই পেসার টিনো বেস্ট এবং ফিদেল এডওয়ার্ডস। যার বোলিং করা নিয়ে সংশয় ছিলো সেই বেস্টের মাঝারি গতির বলেও উইকেট দিয়েছেন তামিম, শাহরিয়ার এবং নাঈম। নাজিমউদ্দিনের উইকেটটা নিয়েছেন ফিদেল এডওয়ার্ডস।
এই পিচেই বাংলাদেশের দুই পেসার রুবেল হোসেন এবং আবুল হাসান ওভারের পর ওভার বল করেও উইকেট ফেলতে পারছিলেন না। বোলিংয়ের সব অস্ত্র ব্যবহার করেও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারেননি। মারলন স্যামুয়েলস ২৬০, শিবনারায়ন চন্দরপল ১৫০ এবং ড্যারেন ব্রাভো ১২৭ রানের ইনিংসও খেলেছেন খুলনায়। ৯ উইকেটে ৬৪৮ রান করে ইনিংসও ঘোষণা করে ক্যারিবীয় শিবির। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই সবচেয়ে বড় টেস্ট ইনিংস। ভারত এর আগে ৬১০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিলো তিন উইকেটে। এমন পিচে বাংলাদেশ দল উইকেট দিলো পেসারদের। এরপরে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক কিছু না। যদিও নাসির হোসেনের দাবি,‘আমাদের সামর্থ্য এর চেয়ে অনেক ভালো। আমরা চাইলে হয়তোবা এর চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। যারা আউট হয়েছেন, আমার মনে হয় তাদের পরিকল্পনায় কিছু ভুল ছিলো। দিনের পর দিন আর এটা হবে না। আমরা ভালো কিছু করবো ইনশাল্লাহ।’
এডওয়ার্ডসের ওপেনিং ওভারের দ্বিতীয় বল সবে শেষ হয়েছে। পরের বলেই যে নাজিমউদ্দিন (০) এলবিডব্লু হবেন কেউ জানতো ? জাতীয় দল নির্বাচকদের জন্য এই টেস্টে নাজিমউদ্দিনের উপহার দুই ইনিংসে ৪ রান। জুড়ি ভাঙ্গার পরও তামিম চড়াও হয়ে খেলছিলেন। বোলারদের মেরেকেটে একাকার করে দেওয়ার তার যে পরিকল্পনা ছিলো, তা ভেস্তে যায় টিনো বেস্টের প্রথম বলে বোল্ড হওয়ায়। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বেল উড়িয়ে নিয়ে যায় বল। এই টেস্টের দুই ইনিংসে তামিমের রান ৫৪ (৩২+২৬)।
ওই ওভারে ২ বলের ব্যবধানে নাঈম ইসলামও আউট, বল ছাড়তে গিয়ে বোল্ড। হ্যামিস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে প্রথম ইনিংসে যিনি বোলিং করতে পারেননি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে পারবেন কি পারবেন না এমন শঙ্কা থাকলেও তা উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত শুরু করলেন বেস্ট। দুই ওভারে পেলেন তিন উইকেট। তার তৃতীয় শিকার শাহরিয়ার নাফীস। শট বলে স্লিপে ক্যাচ। ১২.৩ ওভারে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এভাবে উইকেট পতন দেখে বোঝারই উপায় ছিলো না কোন ফর্মেটের ক্রিকেট খেলছে তারা। এমন কী জাদুমন্ত্রে ক্যারিবীয় পেসাররা উইকেট তুলে নিচ্ছেন। চা বিরতির আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। মুশফিকুর রহিম পেরমলের বলে বাজে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন। অথচ শেষ সেশনে ১৪৪ রান তুলেছে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে নাসির ও সাকিব। সাকিব ৯৭ করে পেরমলের বলে ক্যাচ দিয়েছেন। নাসির ৬৪ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের সংগ্রহ ছয় উইকেটে ২২৬ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও ৩৫ রান দরকার।
এদিন ১১ উইকেট পড়েছে। ৫টি ওয়েস্ট ইন্ডিজের, সাকিব ৪ উইকেট নিয়ে দেশের সবচেয়ে বেশি উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০১২
এসএ