ঢাকা: অবৈধ ব্যাংকিং করে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ‘বিকাশ’। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যাংকিং করার কোনো অনুমোদন দেয়নি। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (পিএসও) হিসেবে অনুমোদন দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বিকাশ।
অপরদিকে, দৃশ্যমান এ অনিয়ম দেখেও নানা কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদাসীন। অনিয়ম রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুই করছে না। কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। ব্র্যাকের এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবসায়িক দাপটের কাছে নত হয়ে চলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক বড়পদে কর্মরত অতি পরিচিত ব্যক্তিটির ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্যই এটা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করার অনুমোদন দেয় বিকাশকে। তবে এর বাইরে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো আমানত সংগ্রহে জড়িয়ে পড়েছে বিকাশ। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখেরও বেশি গ্রাহকের হিসাব খুলেছে তারা।
সূত্র মতে, বিকাশের এসব হিসাবে সর্বশেষ তথ্যমতে ৫০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে।
কিন্তু তাদের শুধু গ্রামীণফোন ও রবির নেটওয়ার্ক এবং সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা আউটলেটের মাধ্যমে পিএসও সেবা দেওয়ার কথা।
বিকাশের এ আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। তবে ব্যবস্থা নিতে রাজি নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংক ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে পিএসও হিসেবে কাজ করার জন্য সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের আবেদন করে। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংককে পিএসও হিসেবে কাজের অনাপত্তি দেওয়া হয়। ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল একই বিভাগ থেকে ব্র্যাক ব্যাংককে বিকাশের জন্য পিএসও লাইসেন্স দেয়া হয়। অথচ ব্র্যাক ব্যাংক ও বিকাশ দুটো আলাদা প্রতিষ্ঠান। তাদের পরিচালনা পর্ষদও আলাদা।
বিকাশ গঠিত হয়েছে আমেরিকান কোম্পানি মানি ইন মোশন ও ব্র্যাকের যৌথ বিনিয়োগে। এতে ব্র্যাকের শেয়ার রয়েছে ৫১ শতাংশ। আর মানি ইন মোশনের শেয়ার রয়েছে ৪৯ শতাংশ।
তবে আরেকটি সূত্র বলছে, ব্র্যাক বিকাশের জন্য কোনো বিনিয়োগ করেনি। ব্র্যাক শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আর এর পুরো বিনিয়োগই যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানি ইন মোশনের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধান মোতাবেক মানি ইন মোশন কোনো অনুমোদন নেয়নি।
পিএসওর নীতিমালায় আছে, যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা করে, সেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ লাইসেন্স পেতে পারে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান না হয়েও লাইসেন্স পেয়েছে বিকাশ।
এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ব্যাপারে স্পষ্ট নীতিমালাও রয়েছে। নীতিমালাতে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাব অবশ্যই ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং গ্রাহককে সুদ অথবা মুনাফা দিতে হবে। তবে বিকাশে খোলা হিসাব ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত নয়। গ্রাহক এ থেকে কোনো সুদও পাচ্ছেন না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, ব্র্যাক ব্যাংক তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশের মাধ্যমে সেলফোনে আর্থিক সেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। এর কার্যক্রম তদারকিতে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধ ব্যাংকিং করার বিষয়টি নজরে এসেছে আমাদের। তবে অদৃশ্য শক্তির কারণে কিছু হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ যাত্রা শুরু করে গত বছরের জুনে। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ২১ জুনে রেডিসন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১০২২ ঘণ্টা, ১১ জুন, ২০১২
এসএআর/সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর