 |
বাউফল(পটুয়াখালী) : জমি নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন। নেই বসার আসন। হঠাৎ সালিশ আয়োজনকারীদের মনে হলো, ‘সালিশ বৈঠকের প্রধান তো আমাদেরই নেতা। সুতরাং, কোনো সমস্যাই নেই।’ যেই চিন্তা সেই কাজ। যাওয়া হলো এক বিদ্যালয়ে, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের দাঁড়িয়ে রেখে নিয়ে চলে আসা হলো চেয়ার টেবিল ও বেঞ্চ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এমনি এক ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার অলিপুরা এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
এদিকে সারাদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পড়ালেখার কাজ সারতে হলো শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার অলিপুরা গ্রামে একটি জমি নিয়ে একই এলাকার বারেক আকনের সঙ্গে নুর হোসেন উকিলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
দীর্ঘদিনেও বিষয়টি ফয়সালা না হওয়ায় স্থানীয় এমপি আসম ফিরোজ বাউফল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক জসিম উদ্দিন খানকে এটি সমাধানের দায়িত্ব দেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এক সালিশ বৈঠক ডাকেন অলিপুরা এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে একটি টোল ঘরে। লোকজনের বসার জন্য চেয়ার টেবিল ও বেঞ্চ আনা হয় ওই স্কুল থেকে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, ‘যেহেতু এ বিদ্যালয়ের সভাপতি ওই সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্কুলের আসবাবপত্র নিয়ে গেলে আমাদের কী করার থাকে।’
বাউফল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আজ ৫ পিরিয়ড ছিল, কম ক্লাস, তাই ২টা বেঞ্চ এনেছি আমরা। তবে কোনো ক্লাস বন্ধ করে বেঞ্চ আনা হয়নি।’
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান লিটু মোল্লা বাংলানিউজকে বলেন, ‘সালিশ বৈঠকে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। স্কুল থেকে ২/৪ টা চেয়ার আনা হয়েছে । স্কুল ছুটি দিয়ে কোনো বেঞ্চ আনা হয়নি।’
বাংলাদেশ সময়: ১৫০৮ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০১২
প্রতিবেদক:মন্জুর মোর্শেদ
সম্পাদনা: মো. মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর