 |
| ছবি : সুমন্ত চক্রবর্তী /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বিশ্ব বিখ্যাত ব্র্রিটিশ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্স ও কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশের প্রথিতযশা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। শুক্রবার ২৯ জুন শুরু হয়ে এই অনুষ্ঠান শেষ হবে ৩০ জুন শনিবার। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোস্যাল সাইন্স এবং ইংরেজি বিভাগ।
২৯ জুন সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম কক্ষে শুরু হয় দু’দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার সাইয়েদাতুন নুর সামিরার উপস্থাপনায় শুরু হওয়া সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান তৌহিদ সামাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ওমর এজাজ রহমান। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোস্যাল সাইন্স বিভাগের ডিন প্রফেসর নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তৌহিদ সামাদ এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব লিবারেল আর্টস ও ইংরেজি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে এ ধরণের যে কোনো সৃজনশীল ও শিল্প সাহিত্য ভিত্তিক আয়োজনে তার সব ধরণের সহযোগিতা থাকবে বলেও এ সময় আশ্বাস দেন তিনি।
এসময় রবার্ট ব্রাউনিংয়ের কবিতা লাস্ট ডাচেস এবং চার্লস ডিকেন্সের ডেভিড কপারফিল্ড উপন্যাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র জীবনে ডেভিড কপারফিল্ড উপন্যাসটি তার মনে ছাপ রেখে যায়।
অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ওমর এজাজ রহমান এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আটর্স ফ্যাকাল্টি ও ইংরেজি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। চার্লস ডিকেন্স ও রবার্ট ব্রাউনিংয়ের সাহিত্য কর্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দুই বিখ্যাত লেখকের সাহিত্যকর্ম তার জীবনকেও প্রভাবিত করেছে।
ডিকেন্সের লেখায় ভিক্টোরীয় যুগের বিভিন্ন সামাজিক অসংগতি উঠে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন ডিকেন্স সুক্ষ্ম দক্ষতার সঙ্গে চরিত্র রুপায়নের মাধ্যমে তার যুগকে নিজের সাহিত্যকর্মে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রাউনিং এবং ডিকেন্সের সাহিত্য কর্মের মাঝে আমরা আমাদের নিজেদেরই খুঁজে ফিরি এবং নিজেদের যাচাই করতে পারি আমরা কে।’
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.নুরুল ইসলামও এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি এই দুই বিখ্যাত সাহিত্যিকের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
তিনি বলেন, ডিকেন্স এবং ব্রাউনিংয়ের সমসাময়িক ভিক্টোরিয়া যুগের সমাজ মূলত ধনিক শ্রেণি, নিম্নবিত্ত শ্রেণি এবং উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই তিনভাগে বিভক্ত ছিলো।
এ প্রসঙ্গে প্রফেসর নুরুল ইসলাম ডিকেন্সের ডেভিড কপারফিল্ড উপন্যাসের শুরুর দৃশ্যে প্রধান চরিত্র পিপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডিকেন্স তার উপন্যাসে ব্রিটেনের সমসাময়িক উঠতি মধ্যবিত্ত সমাজের ভন্ডামি, কপটতা এবং সম্পদ লিপ্সার বর্ণনা উপস্থাপনের পাশাপাশি জ্ঞান বিজ্ঞান ও আধুনিক ধ্যান ধারণার প্রতি তৎকালীন সময়ের মানুষের তীব্র আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ডিকেন্স তার উপন্যাসে তৎকালীন খ্রিস্ট ধর্মীয় চার্চের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার তীব্র সমালোচনা করে বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতির কথাও তার উপন্যাসে তুলে ধরেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ডিকেন্সকে উদার মানবতাবাদের অন্যতম ধারক হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রাউনিং প্রসঙ্গে প্রফেসর নুরুল ইসলাম বলেন, ব্রাউনিং ভিক্টোরীয় যুগের সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিকতা থেকে মুক্ত ছিলেন। তার সমগ্র জীবন নৈতিক সাহসে ভাস্বর ছিলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ব্রাউনিং ইতালির রেনেঁসার চেতনা দ্বারা পরিচালিত ছিলেন বলেও এসময় উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ড্রামাটিক মনোলোগের ( সাহিত্য উপস্থাপনার একধরণের ভঙ্গি) অন্যতম কারিগর হিসেবেও ব্রাউনিংকে উপস্থাপন করেন তিনি।
প্রফেসর নুরুল ইসলামের প্রবন্ধ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অংশ। দুইদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান শেষ হবে আগামী ২৯ জুন। এ সময় ব্রাউনিং এবং ডিকেন্সের জীবন ও সাহিত্য কর্মের ওপর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের সাহিত্যকর্মের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০১২
প্রতিবেদন ও সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর