 |
সংসদ ভবন থেকে: বিরোধী দলের অব্যাহত বর্জনের মুখেই চলতি নবম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশন শেষ হয়েছে। মাত্র দশ কার্যদিবসের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হলেও বেশ কিছু ইস্যুতে দফায় দফায় উত্তপ্ত ছিল অধিবেশন।
রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে বুধবার রাতে ১৪তম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণার আগে স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট আবারও বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশন শুরুর দিনই স্পিকারের রুলিং নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের রায় নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সংসদ। এছাড়া ১০ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধনসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশন শুরু হয়।
সমাপনী ঘোষণা করে স্পিকার বলেন, “গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে জাতীয় সংসদ। সংসদীয় কার্যক্রমকে গতিশীল ও ফলপ্রসু করার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশ ও জাতি সব সময়ই সংসদ সদস্যদের দিকে তথা জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকেন তাদের কাঙ্খিত ফলাফল প্রাপ্তির আশায়।”
স্পিকার বলেন, “ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয। রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুযায়ী পবিত্র সংবিধানে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব এবং কার্যাবলী সুচারুরূপে সম্পাদন করলে রাষ্ট্র পরিচালনার কেনো ক্ষেত্রেই কোনো ধরণের অসঙ্গতি হওয়ার কথা নয়।’’
স্পিকার বলেন, ‘‘সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই আমি আশা করবো, আপনারা সংসদে এসে আইন প্রণয়নসহ অন্য যে কোনো বিষয়ে কথা বলবেন এবং আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। আর এ মাধ্যমেই গনতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে এবং রাষ্ট্র সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার আরও বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল বা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের সাংবিধানিক মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা। আমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ফোরামেই জাতীয় সংসদের ‘কার্যকর’ ভূমিকার বিষয়ে আশাবাদ পোষণ করে থাকি এবং এ ব্যাপারে বিশেষ করে বিরোধী দলকে প্রধান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছি।
তিনি বলেন, ‘‘আমি অত্যন্ত আশাবাদী, প্রধান বিরোধী দল সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে জনগণকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রæতি রক্ষা করবেন।’’
স্পিকার বলেন, “গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদই হচ্ছে মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই আমি আশা করবো, সংসদে অংশগ্রহণ করে কার্যকরী ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে প্রত্যেক সংসদ সদস্য যথাযথ ভূমিকা রাখবেন।”
তিনি বলেন, “চর্চার মাধ্যমেই গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক রীতি-পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের সংসদেও সংসদ সদস্যরা সংসদীয় রীতি পদ্ধতি অনুসরণ করে বিতর্কের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ চলাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, এবারের অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ১০টি। এ অধিবেশনে ২২টি সরকারি বিলের মধ্যে মোট ১৩টি বিল পাস হয়েছে। এছাড়া একটি বেসরকারি বিলও উত্থাপিত হয়েছে। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ৩০৩টি নোটিশ পাওয়া গেছে। নোটিশগুলো থেকে ১৫টি নোটিশ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৬টি সংসদে আলোচিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য ৮৪টি প্রশ্নের মধ্যে সম্পূরকসহ ৪৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সংসদ নেতা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য পাওয়া ১ হাজার ৯০১টি প্রশ্নের মধ্যে মন্ত্রীরা ৭০৩টি প্রশ্নের জবাব দেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
এসএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর