 |
ঢাকা: ডেল্টা স্পিনার্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) সন্দেহজনক। তারপরও গত ১৬ কার্যদিবসে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১২৫ দশমিক ২৯ শতাংশ!
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ডেল্টা স্পিনার্সের শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর গত ১৬ কার্যদিবস ধরেই বাড়ছে এ কোম্পানির শেয়ারদর। সর্বশেষ সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ৬০ টাকা ৫০ পয়সায়।
গত জুনে প্রতিষ্ঠানটির অর্থবছর সমাপ্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ডেল্টা স্পিনার্স জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কালে যে লভ্যাংশ দেখিয়েছে এবং এর একমাস পর কর পরিশোধ পরবর্তী যে মুনাফা দেখিয়েছে এর মধ্যে ব্যাপক তফাৎ লক্ষ্য করা গেছে।
গত ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ১২ পয়সা।
এর আগে গত বছরের ২৮ জুলাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পুনঃগণপ্রস্তাব বা আরপিওর আবেদন জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু দীর্ঘদিন আরপিওর অনুমোদন না পাওয়ায় গত ১৩ মে কোম্পানির এক বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে জানায়, পুনঃগণপ্রস্তাবের আবেদন ও ঘোষণা দুটিই তুলে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই দেওয়া কোম্পানির এক ঘোষণায় বলা হয়, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ প্রত্যেক শেয়ার হোল্ডারকে বিদ্যমান একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুইটি শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোম্পানির ১০ মাসের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
যা অনেকটাই বিস্ময়কর, প্রকাশিত প্রতিবেদনে কর পরিশোধ পরবর্তী মুনাফা দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২ টাকা ১৯ পয়সা। এক মাস আগেও কোম্পানির ৯ মাসের আর্থিক প্রতিবেদনে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা। আর মুনাফা দেখানো হয় ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যা বিনিয়োগকারীদের বিস্মিত করেছে।
এছাড়াও কোম্পানিটি ১:২ হারে রাইট শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ রাইট শেয়ারের ইস্যুমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ টাকা।
যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির রাইট শেয়ারের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা। যদিও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তক্রমে অনুমোদিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি টাকা করা হবে মর্মে গত ১৯ জুন ডিএসই’র ওয়েবসাইটে জানানো হয়।
একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুইটি রাইট শেয়ার অনুমোদন পেলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৯১ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।
এর আগে দুই দফা কোম্পানিটি একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি অধিকার বা রাইট শেয়ার প্রদান করে। প্রথমবার অনুমোদন দেয় ১৯৯৬ সালে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১০ সালে।
এদিকে রাইট শেয়ার ঘোষণা করার পর পরই কোম্পানির একটি নির্ধারিত সম্পদ পুর্নমূল্যায়িত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সম্পদ পুর্নমূল্যায়ন বাবদ ৪৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা রিজার্ভ অ্যান্ড সারপ্লাস হিসেবে যোগ করা হলো। এর আগেও এক দফা কোম্পানির রিজার্ভ ও সারপ্লাসে ২৮ কোটি টাকা পুর্নমূল্যায়ন করে ৩৫ কোটি টাকায় উন্নিত করা হয়।
কোম্পানির ২০১১-১২ হিসাববর্ষের প্রথম ৯ মাস এবং ১০ মাসের মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয়ের তারতম্যের বিষয়ে জানতে কোম্পানি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১২২৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১২
এইচএমএম/ সম্পাদনা : নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর