 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারের পুঁজি হারিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে এক বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
নিহতের নাম কাজী লিয়াকত আলী যুবরাজ (৪০)। তিনি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার মৃত কাজী মোকছেদ আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর গোপীবাগের জিয়া মাঠ সংলগ্ন ৬৪/জে/৬ ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্লাটে বাস করতেন।
সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, নিজ রুমে একটি ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে যুবরাজের নিথর দেহ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ হাউজের বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারী ছিলেন। তার ট্রেডিং আইডি নম্বর ৫৩১।
নিহতের স্ত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার সাথী (২৮)। তিনি শহীদ নবী স্কুলের শিক্ষকতা করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে কাজী মনিষা মল্লিকা (সাড়ে ৪ বছর) নাসরা কেজি স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্রী।
নিহতের শ্যালক শরিফ বাংলানিউজকে জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে যুবরাজের রুমে গিয়ে যুবরাজের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা। ওড়না ফ্যানের সঙ্গে পেঁচিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দেন।
নিহতের শাশুরি মমতাজ বেগম বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টায় যুবরাজ তার মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে বাড়ি থেকে বের হতেন। কিন্তু আজ (সোমবার) যুবরাজ আমাকে বলেন, ‘আম্মা মনিষাকে আপনি নিয়ে আসেন। পরে আমি মনিষাকে স্কুল থেকে নিয়ে এসে দেখি যুবরাজ আত্মহত্যা করেছেন।’
তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে হাউজের শেয়ার ফোর্স সেলের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি-না জানতে চাইলে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ হাউজের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রেজাউর রহমান জানান, তার অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ সেল হয়েছে ২০১১ সালের ৬ জুলাই। সুতরাং ফোর্স সেলের কোনও প্রশ্নই আসে না।
তার বিনিয়োগ কতো ছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ব্যবসা শুরু করেন মাত্র ১৫ লাখ টাকা দিয়ে। যা থেকে তিনি লাভ করেন ২৪ লাখ টাকা। পরে ৩৯ লাখ (১৫+২৪ লাখ) টাকার বিপরীতে হাউজ থেকে ৩০ লাখ টাকা মার্জিন লোন দেওয়া হয়। সুতরাং তার শেয়ার কেনা ছিল ৬৯ লাখ টাকার। তবে বর্তমানে তার শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৫ লাখ টাকা। সুতরাং তার নিট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা।
তবে ওই হাউজে যে সব বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব ভালো ছিল তারা বাংলানিউজকে বলেন, যুবরাজ ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। যা থেকে তিনি লাভ করেন ২৪ লাখ টাকা। যার বিপরীতে তিনি মার্জিন লোন নেন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু এখন সব শেয়ার বিক্রি করে দিলেও তার কাছে হাউজ ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা পাবে।
তারা বলেন, যুবরাজ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বেক্সিমকো লি. কোম্পানির শেয়ার কিনে। তার শেয়ার অনেক বেশি দামে কেনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে গেলে তার লসের পরিমান বেড়ে যায়। এখন তার একাউন্টে যে সব শেয়ার রয়েছে তার মধ্যে বেক্সিমকো লি. কোম্পানির শেয়ারে লস সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১২