 |
| ছবি: নয়ন কুমার /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ গঠিত হলেও এখন ওই সংগঠনের পাশে নেই অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী।
বাজারে পতন হলেই দেখা যায়, ঐক্য পরিষদের মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতাকর্মী ডিএসই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন। তারা বিভিন্ন সময় মাইকের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে কোনও বিনিয়োগকারীই তাদের সে আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না।
এদিকে স্বার্থ রক্ষার নামে কয়েকজন নেতাকর্মী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এমনকি বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে চেইন অব কমান্ড পর্যন্ত নেই। যে নেতা যেরকমভাবে পারছে সে সেরকমভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করছে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা করে কোনও কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বাংলানিউজকে মোবাইল ফোনে জানান, ‘আমরা বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীদের লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু আমার সঙ্গে সংগঠনের কোনও নেতাকর্মীর ধর্মঘট দেওয়ার বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’
এদিকে, গত বুধবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক কয়েকটি গণমাধ্যমে ফোন করে বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছি। বৃহস্পতিবার আমরা ডিএসইর সামনে জড়ো হয়ে ধর্মঘট পালন করবো।’
কিন্তু সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীদের দাবি, ‘আমরা ধর্মঘটের ডাক দেইনি। তবে সব বিনিয়োগকারীদের লেনদেন না করে ডিএসই ভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ ও ধারাবাহিক দরপতনের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছি।’
অন্যদিকে, বিভিন্ন মিডিয়ায় পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার ধর্মঘট পালনের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
মো. রহমত উল্লাহ নামের এক বিনিয়োগকারী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএসই ভবনের সামনে এসেছিলেন ধর্মঘট পালন করার জন্য। তিনি এসে দেখেন ঐক্য পরিষদের নেতারা প্রতিদিনের মতো বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। কিন্তু ধর্মঘটের কোনও নমুনা পাননি তিনি।
এসময় তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিন্তু আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুঁজিবাজারে ধর্মঘটের খবর পড়ে এসেছিলাম। কিন্তু ধর্মঘটের কোনও নমুনা পাচ্ছি না। হাউজে গিয়ে দেখি প্রতিদিনের মতো বিনিয়োগকারীরাও লেনদেন করছেন। তাই এক্য পরিষদের প্রতি আমি একটু হতাশ হয়ে পড়েছি। ভবিষ্যতে তাদের কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেব না।’
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ডিএসই ভবনের সামনে এসে দেখা যায় ঐক্য পরিষদের নেতাদের জড়ো হয়ে ডিএসই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করার জন্য বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু তাদের আহ্বানে বিনিয়োগকারীরা সাড়া দিচ্ছে না।
এ সময় কথা হয় বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে। তাকে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগকারীদের লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছি। এটাকে যদি ধর্মঘট মনে করেন তবে এটা ধর্মঘটই।’
ঐক্য পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আতাউল্লাহ নাইম বলেন, ‘আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মঘট করার কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু কে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সে ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছি না।’
সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক না-কি বিভিন্ন মিডিয়ায় ফোন করে ধর্মঘটের কথা জানিয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে নাইম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ তখন আব্দুল রাজ্জাককে দেখিয়ে তিনি বলেন আপনি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ডিএসইর সামনে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ঐক্য পরিষদের নেতা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এক পর্যায়ে তারা ডিএসই ভবনের সামনের একপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে ৫মিনিট পরে রাস্তা আবার ছেড়ে দেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী ডিএসইতে প্রবেশ করার সময় বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের কতিপয় নেতা তাকে বাধা দেন। পরে ডিএসই’র সিকিউরিটি গার্ডদের সহায়তায় তিনি ডিএসইতে প্রবেশ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১১৪৪ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এসএনএইচ/সম্পাদনা : নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর