প্রায় ১৮ বছর বিরতি নিয়ে ২০০২ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত টেলিফিল্ম ‘চড়–ইভাতি’তে কাজ করার মধ্য দিয়ে অভিনয়ে ফিরেন এই সময়ের জনপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্রাভিনেত্রী ইলোরা গহর । মিডিয়াতে মূলত এই জনপ্রিয় নাট্যাভিনেত্রীর অভিষেক ঘটে পঞ্চম শ্রেণীতে থাকাবস্থায় মসিহ উদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার। এরপর বেশ কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় করলেও অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে সরে আবারও অভিনয়ে নিয়মিত হন তিনি।
দীর্ঘ ১৮ বছর ফেরার পর অসংখ্য টিভি নাটক এবং চলচ্চিত্রে কাজ করলেও কখনোই তাকে কোন তথ্যচিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়নি। এই প্রথমবারের মতো ইলোরা গহর রাকিবুল হাসান পরিচালিত ‘নি:শব্দ’ নামক একটি তথ্যচিত্রে অভিনয় করলেন। সম্প্রতি তথ্যচিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানালেন ইলোরা গহর।
মূলত দেশের বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত নারীদের প্রতি নানা রকমের অন্যায়-অত্যাচার ও অবিচারের তথ্যচিত্র এটি। এমন একটি তথ্যচিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ইলোরা গহর বলেন, ‘ জীবন ঘনিষ্ট এমন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে। একজন এনজিও নারী কর্মীদের জীবন খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। আশাকরি কাজটি দর্শকের অনেক ভালোলাগবে এবং অনেক সচেতন করে তুলবে।’ এই তথ্যচিত্রে ইলোরা গহরের সহশিল্পী হিসেবে আছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ।
ইলোরা গহর সম্প্রতি নাবিল আশরাফ পরিচালিত ‘ভালোবাসার রঙধনু’ ছবির দ্বিতীয় লটের কাজ শেষ করেছেন। ছবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ইলোরা বলেন, ‘চলচ্চিত্রে এই সময়ে আমি খুব কমই কাজ করছি। এই ছবিটির গল্প আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। তাই অনেক ব্যস্ততার মাঝেও ছবিটির কাজ করছি। এখন পর্যন্ত যা দাঁড়িয়েছে, ছবিটি দর্শকের ভালো না লাগার কোন উপায় নেই।’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে ইলোরা গহর অভিনীত ‘হ্যালো অমিত ’ ছবিটি।
কথা প্রসঙ্গে ইলোরা গহর জানালেন, মিডিয়াতে অনেকেই মনে করেন তিনি প্রয়াত অভিনেত্রী রওশন জামিলের মেয়ে। কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়। তিনি এদেশের প্রখ্যাত লেখক , বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা নঈম গহরের কন্যা। নঈম গহর চলতি বছরে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদক।
বাংলাদেশ সময় ১৯১০, জুলাই ২৫, ২০১২
সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক