 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা হরতালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শ্রমজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বিরোধী দল হরতালের ডাক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিলেও সরকার অফিস আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে কোন যানবাহন চলাচল না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী সাধারণ মানুষ।
দুর্ভোগে পড়া এসব মানুষ বলছেন, সাধারণ মানুষের দাবির কথা বলে হরতাল অবরোধ পালন করা হলেও এতে তাদের কোন লাভ হয় না। বরং উল্টো দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হিমশিম খেতে হয় চাকরি বাঁচাতে। আর দিনের অন্ন যোগাতে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না শ্রমজীবি মানুষের।
মঙ্গলবারের হরতালে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গার্মেন্টস কর্মী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
নগরীর কালামিয়া বাজারের বাসিন্দা চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নাইখান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিল্পী বণিক। যে কোন মূল্যে তাকে বিদ্যালয়ে পৌঁছতে হবে। কিন্তু রাস্তায় কোন যানবাহন না থাকায় কিভাবে স্কুলে পৌছবেন সে চিন্তায় অস্থির।
বাসা থেকে বের হয়ে হেটে আর রিকসায় করে শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন দক্ষিণ জেলা বাস স্টেশনে আসলেও কোন বাস পাচ্ছেন তিনি। উপায় না দেখে একটি ভ্যানে চড়েছেন এ শিক্ষিকা।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, হরতাল হলেও স্কুল বন্ধ নেই। যে কোন মূল্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। কালামিয়া বাজার থেকে রিকসায় করে কোনভাবে আসলেও দক্ষিণ জেলায় কোন বাস চলছে না। তাই ভ্যানে চড়ে বসেছি। ভ্যানে করে পটিয়া বাদামতল পর্যন্ত গিয়ে যাব।`
সেখান থেকে আবারো রিকসা বা ভ্যানে করে বিদ্যালয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার সকালে হরতাল চলাকালে একই চিত্র দেখা গেছে শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে। কর্মস্থলে যোগ দেয়ার জন্য সেখান থেকে ভ্যান ও রিকাসায় চড়েছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চাকরিজীবিরা।
আনোয়ারা উপজেলায় কর্মরত একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, একদিকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার সরকারি নির্দেশ অন্যদিকে হরতালে অচল নগরী। মাঝখানে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে চাকরি অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি।
রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সৌমেন বড়ুয়া নগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে কর্মস্থলে যান।
অফিসে যেতে তার দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হলেও মঙ্গলবার হরতালের কারণে প্রায় ২শটাকা খরচ হয়েছে। এরপরও সময় মতো অফিসে পৌছতে পারেননি তিনি।
সৌমেন বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিদনি একটি গাড়ি বদল করেই কর্মস্থলে পৌছতে পারলেও মঙ্গলবার হরতালের কারণে অন্তত ৫ বার রিকসা বদল করে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি।
হরতাল হলেও বরাবরের মতো মঙ্গলবারও খোলা ছিল পোশাক তৈরি কারাখানাগুলো। সকাল থেকেই নগরীতে রিকসা ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল না করায় হেটেই যেতে হয়েছে এসব কর্মজীবি শ্রমিকদের।
নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে কালুরঘাট শিল্প এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক জেসমিন আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, কারখানার নিজস্ব বাস থাকলেও হরতালের কারণে চলতে পারছে না। অন্যদিকে অফিসে উপস্থিত থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, যে বেতন পাই তাতে ঘরভাড়া আর খাবার খরচ দিয়েই শেষ হয়ে যায়। সেখানে মাসে কয়েকটা হরতাল হলে রিকসায় করে কারখানায় যাওয়া আমাদের মতো শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই হেটেই কারখানায় যাচ্ছি।
তার সঙ্গে একমত পোষণ করে পোশাক শ্রমিক মর্জিনা বেগম বলেন, হরতালে কেবল আমাদেরই ক্ষতি হয়। যারা হরতাল দেন তাদের তো চাকরি করে খেতে হয় না।
বাংলাদেশ সময়: ১৭ ৩৬ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১ ২০১২
এমইউ/আরডিজি/টিসি