 |
| ছবি: কাশেম হারুন / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা : রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘ কোনো অনুরোধ জানায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ইউএনএইচসিআর’র একজন পরিচালক তার সঙ্গে ১৮ জুন সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ``এটি পূর্বনির্ধারিত। এর সঙ্গে মিয়ানমারের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।``
উল্লেখ্য, মুসলমান এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চলমান সহিংসতার জের ধরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে সরকারের প্রতি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্স আহবান জানান বলে মঙ্গলবার জানায় বিবিসি।
বিবিসির খবরে বলা হয়, আক্রান্ত রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে গেলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবির সদস্যরা তাদের অধিকাংশকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ছটি নৌকাভর্তি শরণার্থীদের বিজিবি সীমান্ত দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসিকে জানান ইউএনএইচসিআর’র প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্স। তিনি আরো বলেন, অল্পসংখ্যক শরণার্থীই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারছেন। কেননা, দুই সীমান্তেই নিজ নিজ দেশের বাহিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
ক্রেইগ স্যান্ডার্স ওই শরণার্থীদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যেন যতোটা সম্ভব সীমান্ত শিথিল রাখে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়, আমরা সে আবেদন জানিয়েছি। বিশেষ করে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে যারা আহত হয়েছেন তাদের আগে ঢুকতে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।’
এর আগে মঙ্গলবারও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আকস্মিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। ওই ব্রিফিঙেও ইউএনএইচসিআর থেকে এ ধরণের কোনো আহ্বান আসেনি বলে দাবি করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, ``এটা আমাদের স্বার্থ নয়। তাই বাংলাদেশ সরকার চায় না যে, মিয়ানমার থেকে নতুন করে শরণার্থী আসুক।``
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নতুন করে অনুপ্রবেশ না করতে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ``বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক শরণার্থী আছেন। অবৈধভাবেও অনেকে প্রবেশ করেছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব এমনিতেই বেশি। মিয়ানমারের শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের ফলে সামাজিক, পরিবেশগত ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।``
বাংলাদেশে মিয়ানমারের যেসব শরণার্থী আছে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে উল্টো আলোচনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে কিনা জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ``উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। সেখানে কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।``
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাস প্রধানের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালক আলোচনা করেছেন। মিয়ানমারে বাংলাদেশের দূতাবাসও সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার পৃথক এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সীমান্তে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক রাখার কথাও জানায়। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় এরই মধ্যে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
অন্যদিকে মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, ``বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।``
সম্প্রতি জাতিগত সহিংসতার পর রোহিঙ্গারা নদী ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ``কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।``
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ``যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহযোগিতা সরকার দিচ্ছে।``
একজন বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণের জের ধরে রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ-মুসলমান বাঁধা দাঙ্গা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭ জনে। এ কারণে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘ ওই অঞ্চল থেকে সংস্থাটির কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
বাংলদেশ সময় : ১১৫৬ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
কেজেড/সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
Jewel_mazhar@yahoo.com