 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে লেনদেনে ধসের পেছনে ৪ সমস্যা চিহ্নিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এসব সমস্যা সমাধানে একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার এ প্রস্তাবনাটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ডিএসই বাজারের লেনদেন ধসের কারণ সনাক্ত করতে গত ১৩, ১৪ ও ২০ জানুয়ারি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে লেনদেন ধসের পেছনে ৪টি কারণ ও উত্তরণের উপায় চিহ্নিত করা হয়।
প্রস্তাবনার ব্যাপারে ডিএসই’র সভাপতি রকিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ডিএসই ধারাবাহিকভাবে বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা চিহ্নিত করেছে। এগুলো সমাধানের জন্য সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য সোমবার ব্যাংক সংগঠন ও ব্রোকারদের সঙ্গে আবারো বৈঠক করা হবে। এরপর আগামী মাসে ১২ তারিখে অর্থ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে পুঁজিবাজার সংকট ও সমাধান নিয়ে বৈঠক করা হবে।
প্রথমত: স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মার্জিন ঋণ আটকে আছে। অব্যাহত পতনের কারণে ২৫ শতাংশ মার্জিন লোন ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না। এতে অনেক বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের পক্ষে লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ মার্জিন ঋণ সুবিধাভোগীরাই বাজারে লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বর্তমানে তারা অলসভাবে রয়েছে।
এ অবস্থা উত্তরণের জন্য ডিএসই ১৯৯৯ সালের মার্জিন ঋণের ৩ (৫) বিধিটি শিথিলের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি মার্জিন ঋণের আওতায় থাকা ঋণাত্মক বিও হিসাবে লেনদেনের ক্ষমাত মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের ওপর দেওয়ার সুপারিশ করেছে। মার্জিন লোনের ১৩৫ ভাগ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মার্জিন ঋণের বিধিটি শিথিল থাকবে। এ সময়ের মধ্যে ওই পোর্টফোলিও থেকে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী অথবা লেনদেনের দায়িত্বে থাকা মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ কেউই টাকা তুলতে পারবে না।
অর্থাৎ ধরা যাক একজন বিনিয়োগকারী একটি ব্রোকারেজ হাউজে ১০০ টাকা জমা দিয়ে এর বিপরীতে ১০০ টাকা লোন নিয়েছে। এরপর সে মোট ২০০ টাকার শেয়ার কিনেছে। কিন্তু বর্তমানে তার পোর্টফোলিওর মূল্য ৮০ টাকায় রয়েছে। অর্থাৎ তার হিসাবে মার্জিন ঋণের ৮০ ভাগ রয়েছে। এই হিসাবটির মূল্য ১৩৫ ভাগে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকার হাউজের কাছে থাকবে।
দ্বিতীয়ত: ডিএসই সদস্যদের ব্যাংক লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, স্টক ডিলাররা লেনদেনে প্রধান অংশগ্রহণকারী হিসেবে কাজ করে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে তা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে বাজারকে সাপোর্ট দিতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রধান মাধ্যম হলো ব্যাংক লোন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ (১) (ঙ) ধারায় লোন প্রদানের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা পর্যাপ্ত লোন নিতে পারছে না।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য ডিএসই স্টক ডিলারদের ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার জন্য লোন প্রদানের সীমা ১ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটিতে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে।
তৃতীয়ত: ঋণাত্মক ইক্যুইটির বিপরীতে প্রভিশনিং করতে না পারা। ডিএসই’র প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংক সিকিউরিটিজ কমিশনের কাছে ঋণত্মক ইক্যুইটির ২০ শতাংশ প্রভিশনিংয়ের অনুমোদন চেয়েছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ঋণাত্মক ইক্যুইটি রয়েছে ১২৫.২১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ইক্যুইটি রয়েছে ১০০.২৪ কোটি টাকা।
এ অবস্থায় ব্যবসায় টিকে থাকতে ঋণাত্মক ইক্যুইটির ২০ শতাংশ প্রভিশনিংয়ের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিএসই।
চতুর্থত: বাজারে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহী করতে নতুন ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনে কোর ক্যাপিটালের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ রাখার সুপারিশ করেছে ডিএসই।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০১৩
জেএনএ/এআর/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর