 |
ঢাকা: তিউনিসিয়ায় গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে গঠিত সংস্কার কমিশনে সরকারের হস্তক্ষেপ এবং সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন গণমাধ্যম কমিশনার এবং একই সঙ্গে তিনি কমিশনও ভেঙে দিয়েছেন।
তথ্য ও যোগাযোগ সংস্কারে গঠিত জাতীয় কমিশনের প্রধান কামেল লাবিদি তার পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে বলেছেন, “কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো পথ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।”
তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে স্বৈরশাসক জয়নুল আবেদিনে পতনের পর নির্বাচিত সরকার দেশে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম আইন প্রণয়নের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করে। কমিশনের নাম দেওয়া হয় ‘দ্য ন্যাশনাল অথোরিটি ফর দ্য রিফর্ম অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন’।
কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান ইসলামপন্থি সরকার গণমাধ্যমের যথেষ্ট স্বাধীনতা দিতে চাচ্ছে না। তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে সেই স্বৈরশাসকের আমলের মতই আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংস্কার কমিশনের প্রধান লাবিদির পদত্যাগের ব্যাপারে গণমাধ্যমের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস গত মঙ্গলবার বলেছে, আন্তর্জাতিক মানের কোনো সুস্পষ্ট আইন না থাকায় পুরাতন শাসনামলের আদলে জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের নিয়োগ দিচ্ছে সরকার।
স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন ভেঙে দেওয়ার পর এর প্রধান কামেল লাবিদি আরো বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংরক্ষণ এবং নতুন গণমাধ্যম আইন প্রণয়নে একটি বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।”
কমিশন এবং রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস উভয়ে আইনের ১১৫ ও ১১৬ নং অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ অধ্যাদেশ দু’টিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল গণমাধ্যমের জন্য একটি নতুন আইনের ভিত্তি নির্দেশ করা আছে।
তবে কমিশনের ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে তিউনিসিয়া সরকার এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত মে তে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছিলেন, “আমাদের সরকারে সংস্কৃতির স্থান সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
তবে তিউনিসিয়ার কিছু শিল্পী, সাংবাদিক এবং উদারপন্থি অভিযোগ করেন, যদিও দেশ এখন আগের চেয়ে অনেক গণতান্ত্রিক, তারপরও সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট রক্ষণশীল রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে জানুয়ারিতে গণবিক্ষোভের মুখে স্বৈরশাসক জয়নুল আবেদিনের পতনের পর স্বাধীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে তিউনিসিয়ার সরকার গঠিত হয়। এ সরকারে ইসলামপন্থি এন্নাহদা পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এর পরেই আছে চরম রক্ষণশীল সালাফিপন্থিরা।
বিপ্লবপরবর্তী তিউনিসিয়ায় গণমাধ্যম আগের চেয়ে অনেক স্বাধীনতা ভোগ করছে। তবে খুব সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে জরিমানা করে সরকার। একটি কার্টুন ছবিতে আল্লাহ’কে সচিত্র প্রদর্শনের দায়ে তাদের এ জরিমানা করা হয়। ইসলাম ধর্মে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিরাকার বলে বিশ্বাস করা হয়।
এছাড়া গত জুনে ইসলাম অবমাননা করে আঁকা চিত্র থাকায় একটি চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় আয়োজকদের সঙ্গে সালাফিদের সংঘর্ষও হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১২২০ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর