 |
ঢাকা: নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগম বলেছেন, বাঙালি মুসলমানকে সংগীত-সংস্কৃতিতে শামিল করতে নজরুল বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছেন। দেশ বিভাগ ও নজরুলের আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তাঁর সাথে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও তাঁর বিশাল জগতে পরিব্রাজন ব্যাহত হয়নি। কারণ নজরুল সংগীত আমাকে দিয়েছে নতুন জগতের সন্ধান। যে জগত মানবিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমীতে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নজরুল সংগীতের ক্ষেত্রে আমি অন্ধ অনুকরণ নয় বরং তাঁর সুরের কাঠামো ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি, চেয়েছি নজরুলকে বৃহৎ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে। নজরুলচর্চার ক্ষেত্রে আমাদের সকল সংকীর্ণতা দূর করে একত্রে কাজ করা এখন সময়ের দাবি।
স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, নজরুল এক বিদ্রোহের নাম; যে বিদ্রোহ সাহিত্যিক এবং যুগপৎ সামাজিক। সর্বপ্লাবী বিদ্রোহের আগুনে তিনি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে চেয়েছেন অসাম্য, অন্যায় ও শোষণের মানববিরোধী অচলায়তন। প্রগতির পথচলায় নজরুল আমাদের প্রধান সারথি।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নজরুল সংগীত প্রসারের ক্ষেত্রে পথের কাঁটা দূর করতে হবে। নজরুল সংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পীদের শুধু গায়কী আয়ত্তই যথেষ্ট নয় বরং কবির প্রাণময়তাকে অনুভবে রাখতে হবে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম। নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন নাশিদ কামাল, সুজিত মোস্তফা, প্রিয়াংকা গোপ, ড. অসিত রায় প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২০ ঘন্টা, মে ২২, ২০১২
এডিএ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর