ময়মনসিংহ: প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ.টি.ইমাম ময়মনসিংহে বলেছেন, ‘নজরুল এবং বঙ্গবন্ধু দু’জনেরই জন্ম পরাধীন দেশে। পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির সাধনায় দুজনই ছিলেন নিবেদিত।’
তিনি বলেন, ‘নজরুল তার কবিতা ও গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ এবং স্বাধীনতা অর্জনের স্পৃহার যে চেতনা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তার দ্বারা বঙ্গবন্ধু গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। নজরুলই প্রথম ভারতীয় উপমহাদেশে সরাসরি স্বাধীনতার দাবি তোলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পেছনে নজরুলের ক্ষুরধার কলম এবং তীক্ষ্ম লেখনী অনুপ্রেরণার অফুরান উৎস হয়ে কাজ করেছে।’
এইচ.টি.ইমাম বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকি হানাদার সৈন্যদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে মুক্তিযোদ্ধারা নরুলের অমিয় বাণীকে ধারণ করেই নির্ঘাত মৃত্যুকে উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।’
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তীর ২য় দিনে ‘নজরুল, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. লোকমান হোসেন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ ড. আবুল বাশার।
এইচ.টি.ইমাম বলেন, ‘সর্বজনীন মানবতাবাদের প্রবক্তা এ কবি আমাদের সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রায় সব শাখায় বিচরণ করেছেন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভা নিয়ে। জীবন সংগ্রামের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে নজরুল বাংলার মানুষকে দেখেছেন ভিন্ন দরদে। অত্যাচারী, শোষক ইংরেজদের বিরুদ্ধে শিকল ভাঙার গান শুনিয়ে তিনি জাগ্রত করেছিলেন শুধু বাংলাদেশ নয়, তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের সকল মুক্তিকামী জনতাকেই।’
তিনি বলেন, ‘নজরুল সাম্যের গান গেয়ে আর মহাবিদ্রোহের রণতূর্য বাজিয়ে শোষণ আর নির্যাতনের ভিত প্রকম্পিত করেছেন। ধর্মের অপব্যাখ্যা, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প আর মনুষ্যত্বের অবমাননাকর সব অনাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নজরুল বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন মুক্তির এক অনবদ্য পথ নির্দেশিকা।’
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রীয়ভাবে মন্ত্রীসভায় ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বিদ্রোহী কবি নজরুলকে জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করেন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কবির পরিবারের সার্বিক দেখাশুনার দায়িত্বও গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু।’
তিনি বলেন, ‘এরপর কবিকে দেশে ফিরিয়ে আনা, তার কর্মের স্বীকৃতি দান এবং সার্বিকভাবে বাংলাদেশে নজরুলের প্রতিষ্ঠা এগিয়ে নিয়ে যেতে বঙ্গবন্ধু যে অবদান রাখেন, তা কেবল ঐতিহাসিকই নয়, অবিসংবাদিতও বটে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশকে প্রকম্পিত করে ধূমকেতুর মতোই আলোকিত করেছিলেন তারুণ্য ও দ্রোহের এ কবি। সর্বজনের প্রাণের কবি নজরুলের ছিল এক রাজসিক আবির্ভাব। উর্ধ্বে আরোহণ এবং বিশ্বস্রষ্টার মাঝে নিজেকে ভিন্নরূপে সমর্পণ।’
তিনি বলেন, ‘নতুন সৃষ্টির এক সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে তিনি সমগ্র বাঙালি জাতির জীবনে এক মহাআলোড়ন তুলেছিলেন। পরাধীনতার সেই যুগে সম্পূর্ণ নিজস্ব ভঙি ও ভাষায় তিনি তার বীররসের কবিতা ও গানের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন।’
বাংলাদেশ সময়: ২১০৪ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর