 |
ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৮ জন বিদেশি রয়েছেন।
এই পদে আবেদন করেছেন বিমানের সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন শেখ নাসিরউদ্দিন আহমেদও।
রেকর্ড সংখ্যক আবেদন পড়ায় বিমান সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। তবে এসব আবেদনের মধ্যে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বিমানের সর্বশেষ প্রধান নির্বাহী এয়ার কমোডর (অব.) জাকীউল ইসলামও ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। বর্তমানে বিমানের প্রকৌশল পরিচালকও বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা।
তিন বছর আগে বিমানের প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগের সময় এর অর্ধেক আবেদনও পড়েনি। এবার বিপুল সংখ্যক আবেদন পড়ায় এরই মধ্যে বিষয়টি বিমানের অভ্যন্তরে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন নাসির ছাড়াও বিমানের সাবেক আরেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই পদে আবেদন করেছেন।
বিদেশিদের মধ্যে কারা এই পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিমানে জল্পনা কল্পনার কেন্দ্রে বিদেশি আবেদনকারীরাও রয়েছেন।
বিমানে একটি স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্সের যোগ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্নকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে এমনটা জানা গেছে একাধিক সূত্রে।
দেশের চারটি জাতীয় দৈনিকে গত ২৪ মে বিমানের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
আগ্রহী দেশি-বিদেশি প্রার্থীদেরকে জীবন বৃত্তান্ত ও ছবিসহ ৩০ জুনের মধ্যে বিমানের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানায় আবেদন করতে বলা হয়েছিল।
এ বিষয়ে বিমানের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, এই দীর্ঘ তালিকা থেকে সংক্ষিপ্ত একটি তালিকার মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিলে পরিচালনা পর্ষদ সভায় বিমান এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দরখাস্ত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও উঠেছিল। অভিযোগ ছিল সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে না জানিয়ে এ কাজ করেছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে বিমানের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ একচ্ছত্র ক্ষমতা ও প্রভাব বলয় ব্যবহার করে এককভাবে সবকিছু করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি কাউকে না জানিয়ে নিজেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
কাউকে কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া নিয়ে বিমান বাংলাদেশে তোড়পাড় শুরু হয়।
তারই জের ও চলমান আর কিছু বিপত্তির মুখে গত ২০ এপ্রিল পদত্যাগ করেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জাকীউল ইসলাম। তিনি প্রায় তিন বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ২২ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দেওয়া হয় এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনা পরিচালক ক্যাপ্টেন শেখ নাসিরউদ্দিন আহমেদকে। ২৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিমানের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন।
গত ২৬ জুন আদালতের এক রায়ের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে দেওয়া হয় ক্যাপ্টেন শেখ নাসিরউদ্দিনকে। ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিমান কর্তৃপক্ষ এক প্রশাসনিক আদেশ জারি করে ছয়জন বৈমানিকের চাকরির বয়স ৫ বছর বাড়িয়ে ৫৭ থেকে ৬২ বছর করা হয়।
অধিকাংশ বৈমানিক এই আদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং আন্দোলনে নামেন। এরপর বিষয়টি আদালতে পর্যন্ত গড়ায়।
বিমানের এমডি পদে আবেদনের জন্য এভিয়েশন বিষয়ে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনো এয়ারলাইন্সে সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পদে কমপক্ষে ১০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তবে অতি দক্ষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে বয়সসীমা বিবেচনা করা হতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৫ ঘন্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
আইএইচ/ এমএমকে