ময়মনসিংহ : দিনমজুরের কাজ করেন গারো সম্প্রদায়ের এডিসন চিরাং (৫০)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে। অভাবের সংসার। পেট ভরে তিন বেলা খেতেও পান না।
কিন্তু কষ্টের সংসারেও এডিসন তার দুই মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ করেননি। শুধু এডিসন নন, আদিবাসী গারোদের প্রায় সব পরিবারের ছেলে মেয়েই এখন স্কুল অথবা কলেজে পড়ে।
প্রাথমিক, মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও গারো সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি একাধিক গারো পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাকেই এখন তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই লেখাপড়ার জগতে দ্রুত এগিয়ে আসছে এক সময়ের পশ্চাৎপদ আদিবাসী গারো সম্প্রদায়।
হালুয়াঘাটের আচকীপাড়া গ্রামের এলেন্দ্র সাংমাও (৫৩) পেশায় দিনমজুর। এলেন্দ্র জানান, তার ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় দু’জন এখন বাইরে থাকে। বাড়িতে থাকা চারজনের মধ্যে তিনজনই স্কুলে পড়ে।
একই এলাকার পল্লীকা রিছিলের (৩৯) ৩ ছেলেমেয়ে স্কুল ও কলেজে পড়ে। তার বড় মেয়ে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে স্নাতক সম্মানতে পড়াশুনা করছে। আরেক মেয়ে ঢাকায় হলিক্রস থেকে পাস করেছে। পল্লীকা জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে পড়াশুনার বিকল্প নেই।
হালুয়াঘাট উপজেলার মনিকুড়া গ্রামের সুনন্দ ম্রংয়ের (৬৮) সংসার চলে টুকটাক কাজ করে আর বাড়ির উঠোনে সবজি চাষ করে। কষ্টের সংসারেও তিনি চার ছেলেমেয়ের মধ্যে এক মেয়েকে ডিগ্রী পাস করিয়েছেন। তার আরেক ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে পড়ে।
বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় নেতা সওরিন আড়েং জানান, শিক্ষায় গারো ছেলেমেয়েরা দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে। উচ্চশিক্ষাতেও তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। গারো ছেলেমেয়েদের মধ্যে এখন শিক্ষার হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ।
বাংলাদেশ সময়: ০৬৩১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮,২০১৩
সম্পাদনা: কামরুননাহার, নিউজরুম এডিটর- মতামত জানাতে ই-মেইল করুন: eic@banglanews24.com