মুন্সীগঞ্জ: লৌহজংয়ে বাবার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় এখন নিজের জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা করছেন মামলার বাদী ওয়াহিদা আক্তার দিয়া।
আসামিরা উচ্চ আদালত হতে আগাম জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি ধমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মামলার বাদী দিয়া বাংলানিউজকে জানান, মামলা তুলে না নিলে বাবার চেয়েও করুণভাবে তাকে খুন করা হবে বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে। জামিনে বেরিয়ে এসে পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লৌহজংয়ের কাজির পাগলা গ্রামের রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন খানকে গত ১৮ অক্টোবর নিজ বাড়িতে তারই মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার দিয়ার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ব্যাপারে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে দিয়া লৌহজং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মামলার এফআইআরএ উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০১ সালে ঢাকার মতিঝিলে নিজ অফিসে খুন হওয়া অলোচিত শিল্পপতি কাদির হত্যা মামলার ১ নম্বর প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিলেন মোবারক হোসেন খান। এরই জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মোবারকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে মৃত্যুর আগে আসামিরা মোবারককে হত্যার হুমকি দিলে লৌহজং থানায় জিডি করেও তিনি বাঁচতে পারেনি। মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবু ও তার সঙ্গীরা ১৮ আক্টোবর রাত পৌনে ৯টার দিকে মোবারককে দিয়ার সামনে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
মামলার পর পুলিশ মামলার ৩ নম্বর আসামি রহিম বেপারীসহ হান্নান মোল্লা ও সুজন নামে অপর দুই আসামিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। হান্নান মোল্লা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারউক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জবানবন্দিতে মতিঝিলের শিল্পপতি কাদের হত্যা মামলার আসামি মোবাইল কাদের ও শাহাবুদ্দিন খান বাবু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবু, মোবাইল কাদের ও আবু সাইদ নামে ৩ জন আসামি ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে মামলার তদন্তকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাদী ওয়াহিদা খান দিয়া।
এছাড়া আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দিয়া অভিযোগ করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবু বাদী দিয়াকে মামলা তুলে নেওবার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে দিয়া লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মামলা তুলে না নিলে দিয়াকে তার বাবার থেকেও ভয়ানক পরিস্থিতিতে খুন করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে দিয়া তার জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আসমি শাহাবুদ্দিন খান বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, “হুমকিতো দূরের কথা, মোবারক খান খুন হবার দিন আমি দেশেই ছিলাম না। তাই খুন করার প্রশ্নই ওঠেনা।”
বাবু তার বিরুদ্ধে মামলার করায় দিয়ার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লৌহজং থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে একজন এজাহারভুক্ত আসমিসহ তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা এখন জেলহাজতে রয়েছেন। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তদন্তাধীন থাকায় এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে দিয়াকে হুমকি দেওয়ায় তিনি হুমকি দাতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন এসআই।
বাংলাদেশ সময়: ২১২৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
সাদনান হোসেন/সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর
eic@banglanews24.com