ঢাকা: ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটির সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পরেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে কালক্ষেপণ করছে বাংলাদেশের পুঁিজবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ৪৩৭তম কমিশন সভায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা ও মার্জিন ঋণ মওকুফের নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু ১০ দিনের বেশি অতিবাহিত হলেও এখনও এ ব্যাপারে নির্দেশনা পায়নি কোনো ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক।
গত ৩০ এপ্রিল ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে জমা দেন স্কিম কমিটির আহবায়ক ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান।
তালিকা জমা দিয়ে ফায়েকুজ্জামান জানান, ‘তালিকার সঙ্গে সুদ মওকুফের কোন সম্পর্ক নেই। সুদ মওকুফের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের তালিকার জন্য অপেক্ষা না করে নিজ নিজ হাউজের মাধ্যমে সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করতে হবে।’
এদিকে আইসিবি’র তিনটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সুদ মওকুফ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও কোনো প্রতিষ্ঠান সুদ মওকুফ করেছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে দর পতন ও অস্থিরতার মধ্যে ডুবে ছিল। এ সময়ে সরকারসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায়ও স্বাভাবিক অবস্থান ফিরে আসছিলো না বাজার।
এ পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাজার সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে গণভবনে প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা বৈঠক করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ নভেম্বর শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নির্দেশে এসইসি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে এসইসি একটি স্কিম কমিটিও গঠন করে। কমিটিতে ইনভেষ্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামানকে আহবায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন মাসের বেশি সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নে কাজ করে।
নিজস্ব পুঁজি হিসাবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এমন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ এবং ২০১২ ও ২০১৩ সালে ইস্যুকৃত আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্কীম কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার এ ঘোষণা দেয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৪২৯ ঘণ্টা, জুলাই ৯, ২০১২
এইচএমএম
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর