শ্যামনগরের (সাতক্ষীরা) গাবুরা গ্রাম থেকে : সাতক্ষীরায় এবার বাঘের থাবায় জীবন দিলেন আজিবর রহমান। তিনি পেশায় একজন জেলে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি ফিরেছিলেন শুক্রবার রাতে। বাবার চিকিৎসার জন্য ১ হাজার টাকা দিয়ে দু’একদিনের মধ্যে আবার বাড়ি ফেরার কথা দিয়ে শনিবার ফজরের নামাজের পর বাড়ি থেকে রেব হন আজিবর। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। বাড়ি থেকে জীবন্ত বের হওয়া মানুষটা একটু পরেই লাশ হয়ে গেলেন হিংস্র এক বাঘের থাবায়।
শনিবার সকাল ৮টায় সঙ্গী ৩ জনকে নিয়ে ডাঙ্গা থেকে উলুখালি বড়খালে নৌকা নামানোর সময় পেছন থেকে হামলা করে বাঘ। ঘটনাস্থলেই নিহত হন আজিবর। সঙ্গীরা অসহায় দৃষ্টিতে সে দৃশ্য দেখলেন বটে। কিন্তু বাঘের হিংস্র থাবা থেকে কিছুতেই বাঁচাতে পারলেন না প্রিয় সাহসী নেতাকে।
সঙ্গী ৩ জনের একজন আনোয়ার হোসেন। তিনি বাংলানিউজকে এসব তথ্য দেন।
তিনি জানান, ‘আজিবর ভাই ছিলো আমাগো নেতা। তার সাহস ছিলো আমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশি। আজিবর ভাই বললো, তোমরা নাও নামাও। আমি পেছন থেকে পাহাড়া দিই। তার কথা মতো আমরা যখন নাও নামাতে থাকি, হঠাৎ পেছন থেকে আক্রমণ চালায় বাঘটা। ঘাড়ের পেছন দিক থেকে কামড়ে ধরে। আমরা লাঠিসোটা নিয়ে বাঘটাকে তাড়াতে তাড়াতে দেখি, আজিবর ভাই আর বাইচা নাই।’
সংসারে আজিবরের তিন সন্তান। দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় ছেলে মাসুম বিল্লাহ এবার গোনারগারকাটি কামিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি পাস করেছে। সেও অসুস্থ। মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। পরীক্ষার রেজাল্টের পর শুক্রবার সেও বাড়িতে ফেরে। কিন্তু বাবার সঙ্গে তার দেখা হয়নি। তাই বাবাকে রেজাল্টের খবরও সে নিজ মুখে জানাতে পারেনি। বাবা কখন এসেছেন, আর কখন বের হয়ে গেছেন কিছুই জানা ছিল না তার। ফলে তার এতো আনন্দের খবরটা আর কখনোই জানানো হবে না।
বাংলাদেশ সময় : ১৬১৫ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১২
জেপি/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর