 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে লেনদেনের জটিলতা রয়েই গেছে। ওটিসি মার্কেট গঠনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও লেনদেনে ইতিবাচক ধারা ফিরেনি। গত দুই বছরে ওটিসি মার্কেটে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৬ টাকার শেয়ার।
বৃহস্পতিবার ওটিসি সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে ওটিসি মার্কেটে থাকা ৬৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৪টি কোম্পানিতে গত দুই বছরে (৯ মে ২০১০-২৭ জুন ২০১২ পর্যন্ত) ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ২৬৫ টাকার। বাকি ২২টি কোম্পানি কোনও শেয়ার লেনদেন হয়নি।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেড ৭১ হাজার ৪৭০টি শেয়ার ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬০ টাকা, বাংলাদেশ ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড ৮০টি শেয়ার ৪ হাজার ৬২০ টাকা, বিডি লাগেজের ৩০০টি শেয়ার আট হাজার ১৮৮ টাকায়, বিডি জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৪৫০টি শেয়ার আঠার হাজার ৫০ টাকা, বেঙ্গল ফাইন কেমিক্যালসের ২০৪টি শেয়ার ১১ হাজার ৩০২ টাকায়, বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেড ১১ হাজার ৫২০টি শেয়ার ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬১৪ টাকা, বিডি মনোস্পুল পেপারের ৬২ হাজার ৫৬১টি শেয়ার ৫৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০ টাকায়, এক্সসেলসিয়র সুজ ১৬ হাজার ২৭৩টি শেয়ার ৬ লাখ ৬৪ হাজার ১১৮ টাকায়, গচি হাটা একুয়াক্যালচার ফার্মস লিমিটেড ৩০০টি শেয়ার ১৮ হাজার ৮৫০ টাকা, গলফ ফুডস লিমিটেড ৪২ হাজার ১০০টি শেয়ার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা, লেক্সকো লিমিটেড ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৫০টি শেয়ার ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা, মেঘনা শ্রিম্প কালচার লিমিটেড ৩০ হাজার ১২০ টি শেয়ার ১৭ লাখ ৯১ হাজার ৭০ টাকা, মিতা ট্রেক্সটাইল লিমিটেড ২ হাজার ৭৬০টি শেয়ার ১ লাখ ৫২ হাজার ৩১০ টাকা, মডার্ন সিমেন্টের ২ লাখ ১৯ হাজার শেয়ার ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩০ টাকায়, মুন্নু ফেব্রিকসের ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫০টি শেয়ার ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭৫ টাকায়, পদ্মা সিমেন্টের ১ লাখ ৯১ হাজার শেয়ার ১৭ লাখ ৪ হাজার টাকায়, পদ্মা প্রিন্টের ২ হাজার ২০০টি শেয়ার ১৯ হাজার ৭৫০ টাকায়, পেপার প্রসেসিংয়ের আট হাজার শেয়ার ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকায়, কাসেম সিল্কের ১০ হাজার ৫০০টি শেয়ার ৭১ হাজার ৫০ টাকায়, শ্রীপুর টেক্সটাইল মিল্স লিমিটেডের ১ হাজার ৫০টি শেয়ার ৪৪ হাজার ৫২৫ টাকায়, দি ইঞ্জিনির্য়াস লিমিটেডের ৬০০টি শেয়ার ৬৬ হাজার টাকা, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজ লিমিটেডের ৪ হাজার ৪৩২টি শেয়ার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৫ টাকায়, আল আমিন কেমিক্যাল ১ হাজার শেয়ার ৪ হাজার টাকা, আলফা টোব্যাকো ৫৫০টি শেয়ার ১০ হাজার ৮৩৫ টাকা, আরবি টেক্সটাইল ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮০টি শেয়ার ১ কোটি ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫০ টাকা, আশরাফ টেক্সটাইল ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৫০ টাকা, বাংলাদেশ ক্যামিক্যাল ৪৭৪টি শেয়ার ২৪ হাজার ৮৮ টাকা, বায়োনিক সিফুড ১ হাজার শেয়ার ২ হাজার টাকা, ডেন্ডি ডায়িং ৩৫০টি শেয়ার ২৪ হাজার ১৫০ টাকা, ঢাকা ফিশারিজ ৭৫০টি শেয়ার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা, হিমাদ্রী লিমিটেড ১২ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ১ লাখ ১ হাজার ৩২৮ টাকা, মোনা ফুড ৫০টি শেয়ার ২ হাজার ২০০ টাকা, কাশেম টেক্সটাইল ৩ হাজার শেয়ার ২৬ হাজার ৫৫০ টাকা, রহমান কেমিক্যাল ৩৫০টি শেয়ার ৫৫ হাজার টাকা, রোজ হ্যাভেন বলপেন ৫০০টি শেয়ার ৯ হাজার টাকা, সোনালী পেপার ২ লাখ ১ হাজার ৫০ লাখ ২৯ হাজার ৮২০ টাকা, ইউসূফ ফাওয়ার ১ হাজার ৫০০টি ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা, রেইনউইক লিমিটেড ২০টি ১৭ হাজার ৩০০ টাকা, সিয়ামপুর সুগার ১ হাজার শেয়ার ২৩ হাজার টাকা, ইউসিবি ২২ হাজার ৬৯০টি ১২ কোটি ৩০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, তমিজউদ্দীন টেক্সটাইল ১০০টি শেয়ার ৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং ওয়াটার কেমিক্যালের ৪০টি শেয়ার ৮ হাজার ৯৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দুর্বল ভিত্তি আর লেনদেন প্রক্রিয়ার জটিলতার বাজারে চলছে এ অচলাবস্থা। যার কারণে ওটিসি মার্কেটে ক্রেতা পেতে কষ্ট হয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ মার্কেটে লেনদেনে ব্যাপক জটিলতা রয়েছে।
ক্রয় বিক্রয় করতে গেলে তৃতীয় পক্ষ হয়ে আসতে হয়। এর পরও শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় করতে সময় নিচ্ছে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ। যার কারণে ওটিসি মাকের্ট ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ওটিসি মার্কেট চালু করা হয়। শেয়ারবাজারে সবচেয়ে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোকে এই বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়।
যেসব কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই বার্ষিক সাধারণসভা (এজিএম) না করা, শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়া এবং স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি নবায়ন ফি বকেয়া পড়ায় বিভিন্ন সময়ে প্রধান বাজার থেকে কোম্পানিগুলোকে তালিকাচুত্য করা হয়।
এ ছাড়া কাগজের শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর বা ডিম্যাট না করার কারণেও কয়েকটি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওটিসি মাকেটে কোম্পানির সংখ্যা ৬৮টি।
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, জুন ২৮, ২০১২
এসএমএকে/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর