 |
| ছবি : সবিতা রহমান /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে: মহাসড়কে মহাজট। অন্তঃহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। সকাল ১০টার গাড়ি এখনও পায়নি অনেকে। পাঁচ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা।
এ দিকে যাত্রা বিলম্বের কারণে দুপুর দিকে এসআর পরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে বাস কাউন্টারগুলোতে।
এসআর ট্রাভেলস’র যাত্রী তৌহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তিনি যাবেন জয়পুরহাট। পৌনে ১২ টায় তার বাসটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বাসটি বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি।
বাস কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে গাড়ি আসলেই ছাড়বে। রাস্তায় অনেক জ্যাম।গতকাল সকালে যে বাসটি জয়পুরহাট গেছে এখনও ফিরে আসেনি। অথচ ওই বাসটি গতরাতেই এসে ঢাকায় পৌঁছার কথা ছিল।
সুমন মিয়া নামের এক যাত্রী জানান, তিনি যাবেন কুড়িগ্রাম সকাল ১১ টায় বাসটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল ৫ টায় পর্যন্ত তিনিও গাড়ি পাননি।
এসআর পরিবহনের সুপারভাইজার উজ্জল মিয়া বাংলানিউজকে জানান, ঢাকা থেকে রংপুর ২৯৫ কিলোমিটার দূরত্ব। অন্যান্য সময়ে রংপুর যেতে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগত। গতকাল যেতে সময় লেগেছে ১৮ ঘণ্টা।
৬ ঘণ্টা দেরিতে বাস ছাড়ার কথা শিকার করে বলেন, বাসতো আর কেউ বসে রাখে না। নিয়মানুযায়ী একটি বাস দিনে যায়, রাতে ফেরে। আবার পরদিন যায়। এর মধ্যে প্রতি যাত্রার আগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিরতি পায়।
এখন বিরতি থাকল দূরের কথা যাওয়া আসায় লেগে যাচ্ছে প্রায় দুইদিন।এ অবস্থা অব্যহত থাকলে শেষের দিকের বাসগুলো বাতিল করা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।
বাস ছেড়ে যাওয়ার ব্যবধান বাড়ছেই। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ঈদের আগের দিনে বাসগুলো বাতিল করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
ন্যাশনাল ট্রাভেলস এর যাত্রী কাওসার আলী বাংলানিউজকে জানান, দুপুর ১২টায় রাজশাহীর উদ্দেশে যে বাসটি ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল সেই বাসটি এখন ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি। কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট করে সময় বলতে পারছে।
কাউন্টার ম্যানেজার তাকে জানিয়েছে, বাস পথে আছে আসলেই ছেড়ে যাবে।এর বেশি কিছু বলতে পারছেন না।
শ্যামলী পরিবহনের মামুন ইসলাম জানান, দুপুর ২টার বাস বিকেল সোয়া ৫ টায় পাননি তিনি।
শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার আনিস মিয়া বাস দেরিতে যাওয়ার কথা শিকার করে বলেন রাস্তায় জ্যাম হলে আমরা কি কবর। বাস আসলেই ছাড়া হবে।
বাস দেরিতে ছাড়ার কারণে যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।বাস কাউন্টার গুলোতে বসার স্থান না পেয়ে বাস্তায় উপর এসে ঠেকেছে যাত্রীদের স্রোত। অনেকে পেপার ও মালামালের উপর বসে সময় পার করছেন।
ছাত্তার নামের এক বাস ড্রাইভার বাংলানিউজকে সেল ফোনে জানান, তিনি সকাল ৭ টায় রংপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। বিকেল ৫ টায় বগুড়া পৌঁছাতে পারেননি।
তিনি জানান রাস্তায় এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালাতে গিয়ে যানজটের সৃস্টি করছে। পুলিশের তেমন কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি।তার মতে পুলিশ আন্তরিক হলে এই যানজট সৃষ্টি হতো না।
তিনি জানান সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা টাঙ্গাইল জেলা এলাকায়।
যাত্রীদের দুর্ভোগ চোখে না দেখলে বুঝা কঠিন। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।
এসআর পরিবহনের ড্রাইভার গফুর বাংলানিউজকে জানান, গতকাল রাত ১১টায় রংপুরে থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। ১৭ ঘণ্টা পরে বুধবার বিকেল ৪ টায় এসে ঢাকায় পৌঁছেন।
রাজধানী থেকে বের হওয়ার প্রায় সব রুটের চিত্র একই বলে জানা গেছে। মহাখালী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে যানজটের কারণে যথা সময়ে ছাড়তে পারছে বাসগুলো।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৪, ২০১২
ইএস./সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর